প্রান্তডেস্ক:পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে বাংলাদেশে। এরপর থেকে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যেতে বিভিন্ন সীমান্ত চৌকিতে ভিড় বাড়ছে অবৈধপথে পশ্চিমবঙ্গে আসা বাংলাদেশিদের। এদের কেউ এসেছেন দুই বছর আগে, কেউবা এসেছেন এক দশক আগে। সবারই এক কথা পেটের টানে এসেছিলাম। কিন্তু এখন থাকতে দেবে না বলায় আইনি ঝামেলা এড়িয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইছি। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হোল্ডিং সেন্টার বা আটক কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে রাখা হচ্ছে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের। তাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ যাচাই বাছাই হচ্ছে দুই দফায়। প্রথমে পুলিশ করছে। নাম, বাংলাদেশের ঠিকানা লিখে রাখছে।
নেয়া হচ্ছে বায়োমেট্রিক নথিও। তার পরে তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেবার সময় আরেকদফা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এর পরে বাসে করে তাদের পাঠানো হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার বা নিকটবর্তী বিএসএফ ক্যাম্পে। সেখান থেকে তাদের পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে। প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বিজিবির হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে নথি। তারপর তাদের সবুজ সঙ্কেত পেলেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগণার হাকিমপুর সীমান্তে কয়েক শতাধিক অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
একই পদ্ধতিতে রোববার মুর্শিদাবাদে ১৭ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ। সূত্রের খবর, কয়েক দিন ধরে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আটক হন ওই ১৭ জন বাংলাদেশি। শনিবার রাতে তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেন মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের তাদের দেশে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনের একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, লালগোলার পদ্মা ভবনে আটক শিবির তৈরি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ধরা পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সেখানে এনে রাখার কাজ চলছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, শনিবার রাতে তাদের লালবাগের রোশনবাগে বিএসএফ ক্যাম্পে পাঠানো হয়। এরপর রোববার ভোরে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদেরকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে লালগোলার আটক শিবিরে মোট ৯ জন অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনকে শনিবার লালগোলার মোকিমনগর এলাকা থেকে ধরা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে যাদের রাখা হয়েছে, কাগজপত্র খতিয়ে দেখে, আইন মেনে দৈনিক গড়ে ৭০-৮০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এই পদ্ধতিতে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো নিয়ে সরকারিভাবে কোনও তথ্য জানানো হচ্ছে না।

