প্রান্তডেস্ক:পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বেশির ভাগ নেতা নেতৃত্বের দিকে আঙ্গুল তুলছিলেন। বিশেষ করে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সকলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতার ডাকা বিভিন্ন বৈঠকে। তার পর থেকেই দলের অন্দরে পদত্যাগের ঘটনা ঘটতে থাকে। বুধবার বিদ্রোহী ৫৯ জনের সই সম্বলিত চিঠি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়ার পরই বিভাজনের ছবিটি স্পষ্ট হয়েছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে দলের সমস্ত কমিটি এবং সহযোগী সংগঠনগুলি ভেঙে দিয়েছে। সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, দল প্রতিটি স্তরে একটি ব্যাপক আত্মসমীক্ষা, কার্যাবলী পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক মূল্যায়ন করবে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের একটি চিঠিকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিধানসভায় মমতার নিদের্শে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দলনেতা করে জমা দেয়া চিঠিতে অনেকের জাল সই রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর পুলিশকে দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিধানসভার সচিবালয়। জাল সইয়ের অভিযোগ করার জন্য দল ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে। এর পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের বেশির ভাগ নেতা ও নির্বাচিত বিধায়ক নীতিহীনতার প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এড়িয়ে যেতে শুরু করেন।
বিধানসভার স্পিকারকে দেয়া বিদ্রোহীদের চিঠিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূল কংগ্রেসের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার নাম উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম। সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন স্পিকার। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেয়া চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানবেন না বলে তারা জানিয়েছেন। এর আগে দলনেত্রী বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। মুখ্য সচেতক করা হয়েছিল ফিরহাদ হাকিমকে। তবে তাদের মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেসের অধিকাংশ বিধায়ক। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের ওপর থেকে মমতার নিয়ন্ত্রণ চলে গেল বলে পযর্বেক্ষক মহলের অভিমত। বিধায়ক সন্দীপন সাহা দাবি করেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাদের সঙ্গে রয়েছেন। বিধায়কদের অনেকে সরাসরি মুখ খুলেছেন। অনেকে আবার বিষয়টিকে এড়িয়েও গিয়েছেন।
তৃণমূল কার দখলে যাবে, এ নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপড়েন। বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেয়ার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার ফের বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি পাঠান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিদ্রোহী বিধায়কদের চিঠি গ্রহণ করলেও স্পিকার অভিষেকের চিঠি গ্রহণ করেন নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তৃণমূল কংগ্রেসের বতর্মান অবস্থাকে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও একনাথ সিন্ধের জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি এনসিপির ভাঙ্গনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে কোনটি হবে আসল তৃণমূল কংগ্রেস।


