নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের : সুনামগঞ্জে বাসা থেকে থানায় নেওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতা

ছবি সংগৃহীত
প্রান্তডেস্ক:সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে বাসা থেকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। পরিবারের দাবি, বাসা থেকে থানায় নেওয়ার পর তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।
তবে, পুলিশ নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, থানার ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রথমে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে তারা তাদের ইচ্ছায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে বর্তমানে সে সুস্থ আছে।
প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী সিলেট ভয়েসকে, ছেলের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী তিনটি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। আগামীকাল ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা থাকায় তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়া তার বাড়িতে যান। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রতন ছেলেকে নিয়ে কথা বলতে চান বলে তাকে জানানো হয়। পরে ছেলেকে আবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দেন এসআই জাকারিয়া।
প্রিন্সের বাবা বলেন, ‘আমি নিজে ছেলেকে কপালে চুমু দিয়ে কিছু হবে না বলে আশ্বস্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। এরপর তারা তাকে থানায় নিয়ে যান।’
শাহরুখ রাজা চৌধুরী আরও বলেন, ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁর মুঠোফোনে একটি কল আসে। সেখানে প্রিন্সের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ছেলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছে। খবর পেয়ে তিনি ও তার স্ত্রী দ্রুত হাসপাতালে যান।
তিনি বলেন, হাসপাতালে গিয়ে দেখেন ছেলের অবস্থা সংকটাপন্ন। এসময় চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে জানিয়ে দ্রুত সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমানে তাঁর ছেলে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওসি রতন শেখকে খুব ভালো মানুষ হিসেবে চিনি। আমার ছেলের সঙ্গে কী হয়েছে, আমি তার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। আমার সুস্থ ছেলে হঠাৎ এতো খারাপ অবস্থায় কেন হলো, তার জবাব চাই।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ‘প্রিন্সকে একটি মামলায় গতকাল আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তার আগে থেকেই অ্যাজমা (হাঁপানি) রোগ ছিল এবং সে দুর্বল ছিল। থানাহাজতে দাঁড়ানো অবস্থায় পড়ে যায়। তার শরীরের কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। তাছাড়া তার সঙ্গে কী হয়েছে, তা সব সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। সে কীভাবে পড়ে গেল, কীভাবে সে এসেছিল, সবই ফুটেজে আছে। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কিছু লোক মব সৃষ্টি করে গুজব ছড়ায়, পুলিশ মেরে ফেলে গেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘সে এখন আমাদের হেফাজতে আছে। তাকে সিলেটের ওসমানীতে রেফার্ড করলেও তার পরিবার ওসমানীতে চিকিৎসা না দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছে। ডাক্তার জানিয়েছেন, সে সুস্থ আছে। জ্ঞানও ফিরেছে।(’সৌজন্যে;সিলেট ভয়েস)

