জ্বালানি তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে

শুক্রবারের বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.০৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৬.০৮ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জানুয়ারির অধিক লেনদেন হওয়া ব্রেন্ট ক্রুডের চুক্তি পৌঁছেছে ১১২.১৯ ডলারে। অন্যদিকে মার্কিন জ্বালানি তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১.৩৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.৩৭ ডলারে স্থির হয়েছে।
এই মূল বৃদ্ধির পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধিনায়ক অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং করেছেন। বৈঠকটিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক মিত্রদের আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সামরিক হামলা এবং পরবর্তীতে জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতির বিষয়ে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির সম্ভাবনা কম থাকায় বাজারের এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, যা অক্টোবর জুড়েই জ্বালানি তেলের দামকে উর্ধ্বমুখী রেখেছে। অক্টোবরে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ১৪ শতাংশ মাসিক বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের শিপিং রুটে হামলা ও সংঘাত অব্যাহত থাকলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অনায়াসেই প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে সরবরাহ পথ আবার স্বাভাবিক হয়ে এলে দাম কমে ৯০ ডলারে নামতে পারে। অপর একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএস মনে করছে, বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১০ ডলারের কাছাকাছি থাকবে, কারণ সংঘাত কিছুটা কমলেও উপশম বা উৎপাদন পূর্ণ মাত্রায় ফিরতে সময় লাগবে।
সূত্র: ইনভেজ

