পানি চাইতে গিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে আটক ৬: সিসিক বলছে ভাঙচুর, অস্বীকার পানিপ্রত্যাশীদের
প্রান্তডেস্ক:বালতি, কলস ও মগ নিয়ে পানির সংকট নিরসনের দাবিতে সিলেট সিটি করপোরেশনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং নগর ভবনে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির বিষয়টি গনমাধ্যম কে নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরের জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মিরাজ, তাহমিদ, তাহের, জুয়েল, রুহান ও মারুফ।
বিক্ষোভকারীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিষয়টি জানতে পেরে সিসিকের সচিব ও প্রধান প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমে দাবি উপস্থাপনের অনুরোধ জানান।
পরে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগর ভবনে এসে আন্দোলনকারীদের তার কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তবে তারা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে ষষ্ঠ তলাতেই অবস্থান করে স্লোগান দিতে থাকেন বলে সিসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
একপর্যায়ে পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এতে নগর ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিসিক। ভাঙচুরের ঘটনায় নগর ভবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিসিকের নিরাপত্তা শাখার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়জনকে আটক করেন। পরে তাদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের বলেন, পানির সংকট নিরসনের দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে নগর ভবনে গিয়েছিলাম। গত সোমবার এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনে গিয়ে পানির সংকটের কথা জানিয়েছিলেন। তখন কর্মকর্তারা তিন দিনের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার আমরা আবার শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে সিটি করপোরেশনে যাই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পানির দাবি জানাতে গিয়েছিলাম। সিটি করপোরেশনে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। অন্যায়ভাবে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তাদের মুক্তি দিতে হবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের অভিযোগে কর্মচারীরা ছয়জনকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ ও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এজাহার দাখিল করেছে সিসিক। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।
সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দাবি জানানোর একটি প্রক্রিয়া আছে। তারা আমার কাছে দাবি জানাতে পারতেন। কিন্তু নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় উঠে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর কোনোভাবেই কাম্য নয়।

