যৌন হয়রানির শিকার শিশুকে বিচারকের চিঠি ‘ও জেলেই মরবে’

বিচারকের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। সংগৃহীত ছবি
প্রান্তডেস্ক:যৌন নির্যাতনের শিকার ১০ বছরের এক শিশুকে সাহস জোগাতে আবেগঘন চিঠি লিখেছেন ভারতের দিল্লির এক বিচারক। ওই বিচারকের আদালতেই শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
চলতি বছরের শুরুতে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সময় বিচারক রাজানি রাঙ্গা শিশুটিকে উদ্দেশ করে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, আদালত শিশুটির হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরিয়ে দিতে না পারলেও তার কথা যে শোনা হয়েছে, সেটি নিশ্চিত করতে পারে।
শিশুটি আদালতে আবেদন করেছিল, ‘আঙ্কেল’ যেন বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত কারাগারে থাকেন। বিচারক জানান, তার সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
চিঠিতে বিচারক লেখেন, ‘বেটা, এই আদালত তোমার কথা শুনেছে। তুমি যখন বলেছিলে—আঙ্কেল যতদিন না বৃদ্ধ হন, ততদিন যেন তাকে জেলে রাখা হয়—তখন এই আদালত তোমার কথা শুনেছিল। আর আদালত তোমার সেই আবেদনের উত্তর দিয়েছে।’
তিনি আরও লেখেন, ওই ব্যক্তি জীবনের বাকি সময় জেলেই থাকবেন এবং আর কখনো শিশুটিকে, তার ছোট বোনকে কিংবা অন্য কোনো শিশুকে আঘাত করতে পারবেন না।
শিশুটির সাহসের প্রশংসা করে বিচারক বলেন, ‘তুমি এই আদালতের দেখা সবচেয়ে সাহসী ছোট মেয়েদের একজন। তুমি আদালতে এসে যে ব্যক্তি তোমাকে আঘাত করেছে তাকে শনাক্ত করেছ এবং সত্য বলেছ। তুমি চুপ করে থাকোনি। তুমি তোমার মাকে জানিয়েছ।’
চিঠির শেষ দিকে বিচারক শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
গত ২২ সেপ্টেম্বরের রায়ে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতিভা এম সিং ও বিচারপতি দিনেশ ভাটের বেঞ্চ বিচারকের এই বার্তাকে ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ বলে উল্লেখ করেন।
দেশটির হাইকোর্ট দিল্লি জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, বিচারকের চিঠিটি ছাপিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে শিশুটির বা তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের অর্থও দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযুক্তকে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে ভারতের সুরক্ষা আইন ও ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শিশুটিকে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তের সাজা স্থগিতের আবেদনও হাইকোর্ট নাকচ করে দিয়েছেন।

