সেনাদের ইরাক ছাড়ার মুহূর্তে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে ইরানের চিঠি
ইরাকের বাগদাদে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবহন বিমান। মঙ্গলবার ক্যাম্প ভিক্টরিতে। ছবি: এএফপি
প্রান্তডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থি প্রার্থীদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ নিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে একটি চিঠি প্রকাশ করেছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। প্রতিবেশী ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্যে এমন আহ্বান জানানো হলো।
বুধবারের মধ্যে ইরাকের ঘাঁটি থেকে চূড়ান্তভাবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা। বিষয়টি বাগদাদের পাশাপাশি তেহরানও উদযাপন করছে। আইআরজিসি ২৬ পৃষ্ঠার ওই চিঠিটি প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার। এতে ট্রাম্পপন্থি নেতাদের ভোট না দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রতারক ও সহিংস রাজনীতিবিদরা দায়ী। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন।’ আরও বলা হয়েছে, ‘আপনাদের রাজনীতিবিদদের জানিয়ে দিন যে, বিশ্ব বদলে গেছে।’
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প নতুন করে যুদ্ধে না জড়ানো, চলমান সংঘাত বন্ধ এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করেন। এ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।
জনমত যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ইপসসের সঙ্গে মিলে ২১ সেপ্টেম্বর একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে রয়টার্স। এতে দেখা যায়, মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকাকে সমর্থন করেছেন। আর ৩৪ শতাংশ মানুষ ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন। অনেক নাগরিকের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিই প্রধান ইস্যুতে পরিণত হবে।
এমন একটি নির্বাচনের আগে ইরাক থেকে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহারের সমঝোতা বাস্তবায়ন করছেন ট্রাম্প। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় ওই সমঝোতা হয়েছিল। প্রায় ২৩ বছর আগে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর দেশটিতে অস্থিরতা শুরু হয়। যার পরিণতি হিসেবে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটে।

