নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চান ৭১ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা

প্রান্তডেস্ক:ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত ও অমানবিক নির্যাতনের দায়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন একদল ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব ইভেত কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্তত ৭১ জন সংসদ সদস্য (এমপি) এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য (পিয়ার) যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে: লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে পাঠানো ওই চিঠিতে সরাসরি অভিযোগ করে বলা হয়, “ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত ও সুপ্রমাণিত নির্যাতনের সম্পূর্ণ দায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ ইসরাইল সরকারের ওপরই বর্তায়।”
আইনপ্রণেতারা ইসরাইলে চলমান ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান’ ঘটাতে নেতানিয়াহু এবং দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিনের ওপর অতিসত্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য পররাষ্ট্রসচিবের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে কট্টরপন্থি ইসরাইলি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ইতিবাচক ছিল। তবে তা ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের নিষ্ঠুর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং এর পর থেকে কোনো প্রকার জবাবদিহিতা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
জাতিসংঘ ও আইসিসির নথির বরাত: চিঠিতে জাতিসংঘের গত ফেব্রুয়ারির একটি রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল—হেফাজতে নির্যাতন, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, গণহত্যা এবং জীবনধারণের সব মাধ্যম ধ্বংস করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর আধিপত্য বিস্তার ও শাস্তি দেওয়া ইসরাইলি নীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
তাছাড়া, কয়েক মাস আগে ইসরাইলি সেনাদের দ্বারা এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে ধর্ষণের মামলার অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে খোদ নেতানিয়াহু প্রশংসা করেছিলেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের (এফসিডিও) একজন মুখপাত্র এই বিষয়ে বলেন, “ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বন্দিদের প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং আমরা ইসরাইল সরকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছি।”
যুক্তরাজ্য সরকার অবিলম্বে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে (আইসিআরসি) অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, কোনো অভিযোগ ছাড়াই শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে মাসের পর মাস ইসরাইলি হেফাজতে আটকে রাখার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্য।

