প্রান্তডেস্ক:ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরান কখনোই ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করবেনা। নিজ দেশে গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার ও মতবিনিময় সাধারণত কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই হয়ে থাকে। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান তিনি। খবর সিএনএন এর।
সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্বে পেজেশকিয়ান যুদ্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির ভিন্নমতাবলম্বীদের বিষয়ে ইরানের পরিচিত অবস্থানগুলোই তুলে ধরেন। তিনি ইরানের জনগণের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়েও কথা বলেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, ইরান কখনোই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করবে না। যদিও ট্রাম্প ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরান সরকারকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। এর একদিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও ইরান ‘মাথা নত করবে না’।
গত মাসে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছিল, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিও সম্পর্কে তারা অবগত, যেখানে ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন গোয়েন্দা তথ্যও শেয়ার করেছিল যে, ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে মার্কিন বিচার বিভাগ ট্রাম্পকে হত্যার একটি ব্যর্থ ইরানি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করার কথা জানিয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই হত্যাচেষ্টা ছিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে।
সংবাদ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রকাশ্যে বা গোপনে ট্রাম্প কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করা কখনোই ইরান সরকারের অবস্থান ছিল না।’
এছাড়াও তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের কথাও জানান। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যিনি জনসমক্ষে দেখা দেননি। পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনি ‘বেশ সুস্থ’ আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলমান অবস্থায় ইরানের একটি প্রতিনিধিদলের দেশটিতে উপস্থিতিই ইতিমধ্যে নজিরবিহীন ঘটনা। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের নিজ দেশে গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার ও মতবিনিময় কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে হয়ে থাকলেও বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ম্যানহাটনের মিডটাউনের একটি হোটেলের অনুষ্ঠানকক্ষে সিএনএনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বতস্ফূর্ত আলোচনা করেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানি প্রতিনিধিদের ‘শুধুমাত্র জাতিসংঘে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিনিধিত্ব করার উদ্দেশ্যেই’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাদের কার্যক্রমও ‘শুধু জাতিসংঘ-সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ’ রাখতে হবে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন তারা।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, জাতিসংঘের সদর দপ্তর, জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথবা যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের জাতিসংঘ মিশনের স্থাপনার আশপাশের এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও যেতে হলে ইরানি প্রতিনিধিদের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতি নিতে হবে।