হারেৎজের প্রতিবেদন::ইসরায়েলে হামাসের হামলার বার্তা পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু, ঠেকাতে কিছুই করেননি

প্রান্তডেস্ক:প্রায় তিন বছর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা করেছিল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এর জেরে পরে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। হামলাটির প্রায় এক সপ্তাহ আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু সেটি প্রতিহতে নেতানিয়াহু নিরাপত্তা প্রধানদের কোনো তথ্যই জানাননি।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের গণমাধ্যমে হারেৎজ তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করেছে। এরপর বিরোধী দলের নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। তাদের কেউ কেউ নেতানিয়াহুকে তাৎক্ষণাত পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
৭ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে হারেৎজের সাংবাদিকরা মূলত একটি বই প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। ওই বইয়ের অংশবিশেষ নিয়ে মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
হারেৎজ জানিয়েছে, তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ফিলিস্তিনের এক সাবেক কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন, হামাসের যোদ্ধারা ভয়ংকর একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই অভিযানটি ‘ভূমিকম্পের’ মতো হতে যাচ্ছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সাবেক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিষয়টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক উপদেষ্টাকে জানান। ওই উপদেষ্টা বার্তাটি আমিরাতের নেতার কাছে পৌঁছে দেন। এরপর তিনি নেতানিয়াহুকে ফোন করেন। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নেতানিয়াহু শান্তভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলে লিখেছে হারেৎজ।
প্রতিবেদনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।
তবে এই প্রতিবেদনের জেরে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন আসন্ন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক সামরিক কমান্ডার গাদি আইজেনকট। তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও ‘করুণ’ অজুহাত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। করুণ অজুহাতের মধ্যে ছিল, হামলার দিন সকালে নেতানিয়াহুকে নাকি যথেষ্ট দ্রুত ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে আইজেনকট লিখেছেন, ‘৭ অক্টোবরের জন্য নেতানিয়াহুকে কয়েক ডজনবার সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি সব সতর্কতা উপেক্ষা করেছেন। তিনি দায়িত্ব পালনের অযোগ্য।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, ৭ অক্টোবরের প্রাণহানির জন্য নেতানিয়াহু ‘ব্যক্তিগতভাবে এবং সরাসরি দায়ী’। তিনি আর এক মিনিটের জন্যও পদে থাকতে পারেন না।
হামাসের ওই হামলার সময় ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় সংগীত উৎসব চলছিল। সেদিন ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় প্রায় ২৫১ জনকে। তাদের মধ্যে ৪৪ জন মারা গেছেন।
এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। উপত্যকাটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩ হাজার ৬৫৮ জন।

