দুর্গাপূজায় আবারো বাংলাদেশের ইলিশ চায় ভারত, মন্ত্রণালয়ে চিঠি
প্রান্তডেস্ক:আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এই লক্ষ্যে মাছ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক সংস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায় থেকে ইতিমধ্যে ১৮টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ভারতে ইলিশ পাঠানোর জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই-বাছাই করতে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
পদ্মার ইলিশের রপ্তানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান গণমাধ্যমকে জানান, “ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পেয়েছি। তবে কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায়, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।”
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার টন ইলিশ বাংলাদেশে থেকে ভারতে যেত। পরবর্তীতে ২০১২ সাল থেকে রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিবার দুর্গাপূজা কেন্দ্রিক এক মাসের জন্য বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
তবে চিঠিটিতে আরও জানানো হয়, প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হলেও এবার সময় কিছুটা এগিয়ে আনার অনুরোধ করা হয়েছে, যেন ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে সরবরাহ সম্পন্ন করতে পারেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৫০০ টন অনুমোদনের পর ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টন এবং ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ ভারতে যায়। একইভাবে ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩০০ টন, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩০০ টন, ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ৫৭৭ টন এবং সর্বশেষ বছর ১ হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছিল।


