জয়ের পর ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ দিল জার্মানির মস্কোপন্থি দল

জয়ের পর উলরিশ জিগমুন্ডকে (বাঁ থেকে তৃতীয়) অভিনন্দন জানান এএফডির নেতারা। রোববার জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে। ছবি: এএফপি
দ্য গার্ডিয়া:নজার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে জয়ী হয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। এই জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড ফলাফল ঘোষণার পর এক্সে পোস্ট দিয়ে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জিগমুন্ড তাঁর পোস্টে ধন্যবাদের কারণ হিসেবে মাস্কের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ইউরোপের একটি দেশে কট্টর ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী দলের উত্থানকে ‘গুরুতর মুহূর্ত’ বলে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের এক মন্ত্রী। জার্মানির অর্থনৈতিক পরিণতি ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিয়েও বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে প্রথম ডানপন্থি দল হিসেবে তারা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে আছে। স্যাক্সনি-আনহাল্টে তাদের সমর্থনও প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। রোববার রাতে দলটির প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘সমর্থন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য আপনাকে (মাস্ক) ধন্যবাদ।’।
ট্রাম্পের ওই পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে এএফডির জয়ের প্রশংসা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। তিনি এই জয়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন।
ভোটের সংখ্যায় বড় ব্যবধানে জয় পেলেও এএফডি অল্পের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, রাজ্যের ৮৩ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে তিনটি আসন কম পেয়েছে। তাদের ৩৯ জন সদস্য জিতেছেন।
সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এএফডিকে সহযোগিতা না করার ব্যাপারে অবস্থান নিয়েছে অন্য দলগুলো। তাই জয় পেলেও ডানপন্থি দলটির ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। এএফডি নিজেও জোট সরকার গঠনে আগ্রহী না।
ইউরোপের জন্য বার্তা
ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী বেঞ্জামিন হাদ্দাদ এই জয়কে ‘ইউরোপের জন্য একটি গুরুতর মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জাতীয়তাবাদ ও বিদেশি বিদ্বেষ কখনো সমাধান হতে পারে না।’
পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও বলেছেন, ‘পোল্যান্ডে শুধু নির্বোধ ও বিশ্বাসঘাতকেরাই এএফডির জয়ে আনন্দিত হতে পারে।’
জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউট সতর্ক করেছে, এএফডির উত্থান স্যাক্সনি-আনহাল্টসহ পুরো জার্মানির অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। তাদের অভিবাসননীতি রাজ্যটির বিপর্যয়ের কারণ হবে। সেখানে জনসংখ্যা ক্রমেই কমছে ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। রাজ্যটি বিদেশি শ্রমিকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সমালোচকেরা আরও সতর্ক করেছেন, মস্কোপন্থি হওয়ায় এএফডি পরিচালিত রাজ্য থেকে সংবেদনশীল তথ্য রাশিয়ায় পাচারের ঝুঁকি আছে। তবে এএফডি এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটি বলেছে, তারা দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থায় সংস্কার করতে চায়।

