২৫০ গুমের ঘটনায় নেয়া হচ্ছে বড় মামলার প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন। ছবি : সংগৃহীত
প্রান্তডেস্ক:আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে গুম হওয়ার ২৫০টি অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বড় মামলা প্রস্তুত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গুম হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো আলোচিত নামগুলোও রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই তদন্ত শেষ করে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করতে চায় প্রসিকিউশন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আড়াই শ অভিযোগ তদন্তের জন্য গুম বিশেষজ্ঞ পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তদন্তকারী কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বক্তব্য রেকর্ড করা, গুমের সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছেন।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ থেকে ১৫০টি এবং ‘আমরা গুম পরিবার’ থেকে ৬০টি অভিযোগ প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা পড়েছে। বাকি অভিযোগগুলো এসেছে ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ২৫০টি গুমের ঘটনা তদন্ত করছি। ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত এই গুমগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো পদ্ধতিগত ও পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় বা সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার মিল পাওয়া গেছে। তাই আমরা এগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছি।’
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে অপহরণের পর বাহিনীগুলো অসাবধানতাবশত কিছু তথ্য-প্রমাণ রেখে গেছে, যা এখন ডিজিটাল এভিডেন্স হিসেবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফের গণশুনানি বা বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমসংক্রান্ত তিনটি বড় মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া জেআইসি মামলা এবং র্যাবের ‘টিএফআই সেল’ সংক্রান্ত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্তত ১৭ জন আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১০টি মামলার তদন্ত চলমান আছে, যেখানে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকে আসামি করা হয়েছে।


