সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে মিমি হত্যা, জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো রহস্য

প্রান্তডেস্ক:জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট সংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলার বাসা থেকে ইশরাত জাহান মিমি নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তার আসামি কাউসার আহমেদ খানের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, সম্পর্কের টানাপড়েন ও টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে মিমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
তদন্ত ও আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, প্রায় তিন বছর আগে কাউসারের রাফি স্টোরে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বলে কাউসারকে বাসায় ডেকে নেন মিমি। সেখানে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং সেটি গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন কাউসার।
পিবিআইয়ের দাবি, ওই ভিডিও ব্যবহার করে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করা হতো। একপর্যায়ে কাউসার তার সঞ্চিত অর্থের পাশাপাশি জমি এবং মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থও মিমির পেছনে ব্যয় করেন বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
এছাড়া মিমি কাউসারকে ইয়াবা সেবনে আসক্ত করার চেষ্টা করতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলার জন্য কাউসারকে চাপ দিতেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়।
ঘটনার দিন মিমি কাউসারকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন এবং কাউসার তার সঙ্গে আছেন বলে জানান। স্ত্রীকে ফোনে কথা বলানো নিয়ে কাউসারের সঙ্গে মিমির ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, একপর্যায়ে কাউসার মিমির গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারের পর কাউসারকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

