বাংলাদেশের কাজী সালাউদ্দিন ফের সাফের সভাপতি

প্রান্তডেস্ক:বাংলাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন বাফুফের দায়িত্ব নেওয়ার পর ফুটবলে সাফল্যের প্রমাণ দিতে পারেননি। সরকার বদলের পর তিনি হারিয়েছেন দেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতির পদ। এক বছর হয়ে গেছে তার সভাপতির পদ হারানোর। তবে দেশের ফুটবলের সীমানা পেরিয়ে তিনি ধরে রেখেছেন তার প্রশাসনিক আধিপত্য।
দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্ট ও সরকার তাকে যেভাবেই মূল্যায়ন করুক না কেন, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটলে তার প্রভাব এতটুকুও কমেনি। বরং সাফের সভাপতির পদে আরও একটি মেয়াদ নিশ্চিত করে আবারও নিজের অবস্থান শক্ত করলেন তিনি।
ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। সভাপতি পদে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি।
কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মধ্য দিয়েই ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া তার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘ হলো।
এক সময় সাফের গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি সভাপতি থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের নির্বাহী কমিটির কোনো পদে থাকার সুযোগও ছিল না। কিন্তু গত বছর কলম্বোয় অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় এই দুটি বিধানই বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, সভাপতি হিসেবে আবারও দেখা যাবে সালাউদ্দিনকে।
তবে এবারের নির্বাচনের একটি দিক ছিল ব্যতিক্রমী। এতদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন নিয়ে সাফ নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার তা হয়নি। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাফুফে কমিটির পক্ষে তাকে সমর্থন দেয়নি। তাই বাংলাদেশের বদলে নেপাল ও ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাব এবং সমর্থন নিয়েই সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেন তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আর কোনো প্রার্থী না আসায় তার পুনর্নির্বাচন কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
সাফের নতুন কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও বেড়েছে। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফ প্রথমবারের মতো নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে। নির্বাহী কমিটিতে মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউও জায়গা পেয়েছেন।
কংগ্রেস শেষে এখন দৃষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের ড্রয়ের দিকে। তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে নেপাল আপাতত ড্রয়ের বাইরে রয়েছে। সাফ নেপালকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে তারা। সেক্ষেত্রে স্বাগতিক বাংলাদেশের গ্রুপেই জায়গা হবে নেপালের। অন্যথায় তাদের ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতা।

