বিশেষজ্ঞ মত: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল হয়েছে
প্রান্তডেস্ক: মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে একটি স্বাভাবিক ও অবধারিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। তিনি পদত্যাগ করায় দেশ ও জাতি সবার জন্য মঙ্গল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তাঁরা।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী সংবাদমাধ্যম কে বলেন, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। অনেকে হয়তো সন্দেহ করতে পারেন যে হঠাৎ করে কেন পদত্যাগ করলেন। নির্বাচনের পরে তো কয়েক মাস চলে গেল তখন এটা হলো না। আমার মনে হয়, হয়তো স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন অথবা তিনি কমফোর্ট (স্বস্তি) ফিল করছেন না। অথবা সরকার থেকে তিনি এমন কিছু সংবাদ পেতে পারেন যে সরকার হয়তো তাকে এ পদে রাখতে চাচ্ছেন না, এমন কিছুও হতে পারে। এ ছাড়া তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদে রেখে সরকার একটা অস্বস্তিকর পরিবেশে ছিল, কিন্তু কিছু বলতে পারেনি। আমার মনে হয় সরকারের জন্য ভালো হয়েছে, দেশের জন্য ভালো হয়েছে। নুরুল আমিন বেপারী আরও বলেন, তিনি (সাবেক রাষ্ট্রপতি) একজন বিতর্কিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এস আলমের অর্থাৎ ইসলামী ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। উনি যখন যেখানে চাকরি করেছেন সেখানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেছেন। একজন বিতর্কিত ব্যক্তি পদত্যাগ করায় দেশ ও জাতি সবার জন্য ভালো হয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) একটি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। এর বাইরে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, সরকারের পক্ষ থেকেও এখনো তেমন কিছু জানা যায়নি। আমি এর বেশি বলতে চাই না। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন না হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক হতো। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক দল ক্ষমতায় থাকলে অন্য দলের সঙ্গে সহাবস্থানের রাজনীতি নেই। যে দল রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছিল তারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, নতুন কোনো দল যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তবে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাদের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে পদে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, যেকোনো সময় তাঁকে অপসারণ বা অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করার ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজেও নির্বাচনের পর আর পদে থাকতে চাননি বলে আগে জানিয়েছিলেন। হয়তো সরকারের স্থিতিশীলতা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের বয়সও পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। আমি মনে করি সরকার এবং রাষ্ট্রপতি- উভয়ের সমঝোতার ভিত্তিতেই এই পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে কোনো সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মনজিল মোরসেদ বলেন, কোনো জটিলতাই নেই। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নির্ধারিত আছে। এক্ষেত্রে স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আবার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে বিজয়ী দল (বিএনপি) যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই পরিবর্তন সংবিধান স্বীকৃত একটি পদ্ধতি, জানান জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী।

