অমর চাঁদ গুপ্ত অপু::দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকা। খনির ড্রেন থেকে নেমে আসা ময়লা কালচে দূষিত পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করছেন একদল নারী। কারো হাতে বাঁশের চালুনি, কারো হাতে বাঁশ, কারো হাতে ছেঁড়া প্লাস্টিকের বস্তা। তারা প্রত্যেকেই কেউ কোমর, কেউ বুক আবার কেউ বা গলা সমান পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করছেন। কেউ বাঁশ দিয়ে ড্রেনে খোঁচা মারছেন, কেউ চালুনি দিয়ে কয়লার ময়লা সংগ্রহ করছেন। আবার কেউ পানির নিচে হাত ডুবিয়ে কাদা ও কয়লার ছোট ছোট টুকরো খুঁজে আনছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন তারা পানির ভেতরে হারিয়ে যাওয়া জীবনের শেষ অবলম্বনটুকু খুঁজতে মরিয়া।
আসলেই তা-ই, ময়লা পানি থেকে পাওয়া এই কয়লার গুঁড়াই এখন এ এলাকার বহু পরিবারের একমাত্র আয়ের উত্স। মূলত ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় যে ময়লা ও কয়লার গুঁড়া পানির সঙ্গে ভেসে আসে সেটিই সংগ্রহ করেন তারা। স্থানীয়দের কাছে যা ‘কালো সোনা’ নামে পরিচিত। আর সেই ‘কালো সোনা’র খোঁজেই দিনের পর দিন ময়লা পানিতে দাঁড়িয়ে জীবন কাটছে বড়পুকুরিয়ার কয়েক শ নারী। বিশেষ করে কয়লা খনি এলাকার চৌহাটি ও শাহগ্রামের নারীরা প্রায় ২০ বছর ধরে এই কাজ করছেন। একসময় কেউ অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন, কেউ কৃষিকাজে সহায়তা করতেন, কেউ সংসার সামলাতেন। কিন্তু অভাব, স্বামীর অসুস্থতা, সংসারের ভাঙন কিংবা দারিদ্র্যের চাপে একসময় তাদের নামতে হয়েছে এই কালো পানির মধ্যে।