সরাইলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বন্ধের প্রতিবাদ, রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটি চমৎকার সিনেমা’

যারা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, যারা বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় আজ সোমবার বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘গতকাল আমি সিনেমাটি দেখেছি, এটি চমৎকার একটি সিনেমা। এটি পরিবারের শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ—সবাই একসঙ্গে বসে দেখতে পারে। সেই সিনেমা কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো?’
সরকারের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যাদেরকে আপনারা আজ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন; আপনাদের মদদে যারা আজ গানবাজনা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপরে শক্তভাবে প্রতিরোধ করার সাহস পাচ্ছে, একদিন তাদের হাতেই কিন্তু আপনারা পরাজিত হবেন। আমি আশা রাখব, শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সামনের প্রজন্মকে আমরা যেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে না রাখি। আমরা এই রকম রাষ্ট্র আশা করি না, যেই রাষ্ট্র মানুষকে পেছনে টেনে নিয়ে যায়।’
রুমিন ফারহানা দাবি করেন, ‘অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যেন নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন থাকবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী—এই পরিচয় আপনারা কোনো গোষ্ঠীকে মুছে ফেলতে দেবেন না।’
গত শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। কিন্তু বৃহস্পতি ও শুক্রবার জেলার কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সিনেমাটি প্রদর্শন না করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার চালানো হয়। পরে রোববার ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন কসবা উপজেলায় একটি স্কুলের মাঠে সিনেমাটির প্রদর্শনীর আয়োজনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসন গিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

