প্রান্তডেস্ক:ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (এএপি)-এর সাতজন সংসদ সদস্য দল বদল করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এই পরিবর্তন আসে বলে সোমবার প্রকাশিত একটি সংসদীয় তালিকায় জানানো হয়েছে। এতে সরকারের আইন পাসের পথ আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলত্যাগ করা সাতজনই ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির অন্যতম প্রধান সমালোচক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন এএপির সদস্য। এই দলটি উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য পাঞ্জাবে ক্ষমতায় রয়েছে এবং আগে দিল্লি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও পরিচালনা করেছে।
এই দলবদলের ফলে রাজ্যসভায় এএপির এর আসন সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র তিনটিতে। অন্যদিকে বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩-এ, যা ২৪৫ সদস্যের এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০টি আসন কম। তবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) জোটের মোট আসন সংখ্যা প্রায় ১৪০, যা কক্ষে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
ভারতের রাজ্যসভায় সদস্যরা ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। মোদির জোট বর্তমানে ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১৯টি এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে দুটি পরিচালনা করছে।
দলত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং এবং রাঘব চাড্ডা, যিনি উচ্চমূল্যের খাদ্যসহ মধ্যবিত্তের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরব হয়ে পরিচিতি পান। চাড্ডা অভিযোগ করেন, এএপি এখন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও আপসকামী লোকদের’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলত্যাগীরা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দলত্যাগকারীদের প্রায় সবাই পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যেখানে আগামী বছর রাজ্য নির্বাচন হওয়ার কথা। বিজেপি এখনো সেখানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
এদিকে কেজরিওয়ালসহ এএপি-এর একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা রয়েছে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির একটি আদালত কেজরিওয়ালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় বিচার শুরুর আবেদন নাকচ করে দেয়। এএপি দাবি করেছে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।