মে দিবসের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:২৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২৮ বার পঠিত
প্রান্তডেস্ক:মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস প্রতি বছর ১লা মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, যা শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের প্রতীক । ১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন ও আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, যা শ্রমিক অধিকারের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়। মে দিবসের মূল ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট:-
- পটভূমি (১৮৮৬): ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে শ্রমিকদের প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি অমানবিক পরিশ্রম করতে হতো । ১৮৮৪ সালে আমেরিকান ফেডারেশন অফ লেবার ১৮৮৬ সালের ১লা মে-র মধ্যে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি কার্যকর করার আল্টিমেটাম দেয় ।
- শিকাগোর হে-মার্কেট ট্রাজেডি: দাবি না মানায় ১লা মে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও আন্দোলন শুরু করে। ৪ঠা মে, ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে-মার্কেট (Haymarket) এলাকায় আন্দোলনের সময় পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালালে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন।
- ফাঁসি ও আত্মত্যাগ: এই আন্দোলনের নেতাদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং কয়েকজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। শ্রমিকরা তাদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন ।
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১৮৯০ সাল থেকে মে দিবসকে শ্রমিক শ্রেণির ‘আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ।
মে দিবসের তাৎপর্য:
মে দিবস শুধুমাত্র ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিই নয়, বরং শ্রমিকদের শোষণ-পীড়ন থেকে মুক্তি, ন্যায্য মজুরি এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একাত্মতার প্রতীক । বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে এই দিনটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় ।
মে দিবস শুধুমাত্র ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিই নয়, বরং শ্রমিকদের শোষণ-পীড়ন থেকে মুক্তি, ন্যায্য মজুরি এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একাত্মতার প্রতীক । বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে এই দিনটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় ।

