চরম পত্র-এম আর আখতার মুকুল
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ৭৮ বার পঠিত
–
প্রান্তডেস্ক:মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সকল মুক্তিকামী মানুষকে; যে বেতার কথিকা উজ্জীবিত করতো তাঁর সর্বশেষ এপিসোডের কিছু অংশ।
লেখক ও পাঠক ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতারের অন্যতম শব্দসৈনিক তার কিছু অংশ বর্তমান প্রজন্মের জন্য তুলে ধরলাম।
——————————————————-চরম পত্র
“কি পোলারে বাঘে খাইলো? শ্যাষ। আইজ থাইক্যা বঙ্গাল মুলুকে মছুয়াগো রাজত্ব শ্যাষ। ঠাস্ কইয়্যা একটা আওয়াজ হইলো। কি হইলো? কি হইলো? ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পিঁয়াজী (নিয়াজী) সা’বে চেয়ার থনে চিত্তর হইয়া পইড়া গেছিলো। আচ হাজার আষ্টশ’ চুরাশি দিন আগে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট তারিখ মুছলমান-মুছলমান ভাই-ভাই কইয়া, করাচী-লাহুর-পিন্ডির মছুয়া (গোঁফওয়ালা হানাদার বাহিনী) মহারাজরা বঙ্গাল মুলুকে যে রাজত্ব কায়েম করছিলা, আইজ তার খতম্ তারাবী হইয়া গেল।
বাঙালি পোলাপান বিচ্চুরা দুইশ পঁইষট্টি দিন ধইরা বাঙাল মুলুকের ক্যাদো আর প্যাঁকের মাইদ্দে ওয়ার্ল্ড-এর বেস্ট পাইটিং ফোর্সগো পাইয়া, আরে বাড়িরে বাড়ি! ভোমা ভোমা সাইজের মছুয়াগুলো ঘঁৎ ঘঁৎ কইরা দম ফ্যালাইলো। ‘ইরাবতীতে জনম যার ইছামতীতে মরণ’।…..
২৫শা মার্চ তারিখে সেনাপতি ইয়াহিয়া খান বাঙালিগো বেশুমার মার্ডার করনের অর্ডার দিয়া কি চোট্পাট। জেনারেল টিক্কা খান হেই অর্ডার পাইয়া ৩০ লাখ বাঙালির খুন দিয়া গোসল করলো। তারপর, বঙ্গাল মুলুকের খাল-খন্দক, দরিয়া-পাহাড়, গেরাম-বন্দরের মাইদ্দে তৈরি হইলো বিচ্চু (মুক্তিবাহিনী)। ‘যেই রকম বুনোগুল, সেইরহক বাঘা তেঁতুল।’ গেরামের পোলাপান যেমতে কইর্যা বদমাইশ লোকের গতরের মাইদ্দে চোতরা পাতা ঘইস্যা দেয়, বিচ্চুগো হেই রকম কাম শুরু হইয়া গেল। হেই কাম বিগিন…..ঢাঁই-ই-ই-ই! কি হইলো কি হইলো? ঢাকার মতিঝিলে বিচ্চুগো কারবার হইলো”।..

