ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় তরুণ, ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

×
প্রান্তডেস্ক:ম্যাচে মিসরের পরাজয় ও রেফারিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ এনে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে নোয়াখালীতে এক তরুণ লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গেছেন। অভিযোগে ম্যাচে পূর্বপরিকল্পিত জালিয়াতি ও কোটি কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করার দাবি তুলে ওই তরুণ ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাকিব (২২) সুধারাম থানায় ওই অভিযোগ নিয়ে যান। লিখিত অভিযোগে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ ও আইনমান্যকারী ফুটবল সমর্থক হিসেবে দাবি করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শাস্তির দাবি জানান। অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হিসেবে ফিফার সভাপতি ও ম্যাচ রেফারি ছাড়াও আরও ১৫-২০ জন ‘প্রতারক’ ওই ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করেন।
রাকিবের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচের মাত্র ১৪তম মিনিটে মিসর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মিসর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিসর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেয়।
বাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিসর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
এ নিয়ে রাকিব আরও বলেন, আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি দেখার পর থেকে আমিসহ আমার অভিযোগের সাক্ষীরা চরমভাবে ভেঙে পড়েছি। এই অন্যায়ের বিচার হওয়া উচিত। যার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। তবে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় আমি একই অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাব, প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করব।
জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম তরুণের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই অভিযোগ আমাদের নেওয়ার সুযোগ নেই। পরে ওই তরুণকে বুঝিয়ে বলা হলে তিনি তাঁর লিখিত অভিযোগটি নিয়ে চলে যান।

