জাতি কখনোই আওয়ামী লীগকে গ্রহণ করবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রান্তডেস্ক:কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ও ‘অপতৎপরতায়’ সরকার মোটেও শঙ্কিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জাতি দলটিকে কখনোই রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে না। রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “লকডাউন—আমরা শব্দ শুনেছি। এখানে লকডাউন কি দৃশ্যমান হয়েছে? এগুলো জাতি প্রত্যাখ্যান করেছে, আপনার প্রশ্ন আমি বুঝতেই পেরেছি। যেই শক্তি, আওয়ামী শক্তি ১৪০০ লোকের প্রাণ নিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে—এটা জাতিসংঘের রিপোর্ট। আমাদের রিপোর্ট অনুসারে এটা ২০০০-এরও বেশি।
“সেই দুষ্কৃতকারী, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যারা নিষিদ্ধ এখন, তারা এখনো জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করে নাই, দোষ স্বীকার করে নাই, উচ্চবাচ্য করছে বিদেশে বসে।
“তাদের এ সমস্ত অপতৎপরতায় আমরা মোটেও শঙ্কিত না। এই জাতি তাদেরকে কখনোই এই দেশে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে না। তো সুতরাং এগুলো অপাংক্তেয়। তারা ডিসেম্বরে ফিরবে বলে, না ফেব্রুয়ারিতে ফিরবে বলে—এগুলাতে আমাদের কোনো মনোযোগ নাই।”
এক সাংবাদিক বলেন, ‘‘দুইদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসবের সঙ্গে কারা জড়িত বা কজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?’’
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা শুনেছি, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, মাফিয়া শক্তি, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তারা আইসিটি কোর্টের, মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালতের একটা রায়ের প্রেক্ষিতে একটা তথাকথিত কর্মসূচি দিয়েছে। সেটা মনে হয় আজকে, ২০ তারিখ। লকডাউন নাকি যেন নাম দিয়েছে।
“সেটাকে উদ্দেশ্য করে রাজধানীতে কিছু ককটেলবাজি করেছে, রাতের অন্ধকারে দুই-একটি জায়গায়। প্রত্যেকটা আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি, মোটরসাইকেলসহ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাই কোর্টের ফটকের সামনে যারা একটা ককটেল মেরেছিল, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে থাকেন, “তারা কিছু বাস, পরিত্যক্ত বাস এবং কিছু বাস—যেগুলো চালক এবং হেলপার বিহীন অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং করা থাকে রাতে; সেগুলো টার্গেট করে দুই-একটাতে অগ্নিসংযোগ করেছে, আপনারা দেখেছেন। এগুলোও আমরা ফাইন্ড আউট করার চেষ্টা করছি সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে। তাদেরকে শনাক্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“তাদের অপতৎপরতা আগে থেকেই দৃশ্যমান ছিল। এগুলোতো আমরা খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছি না।”
আরেক সাংবাদিক বলেন, ‘‘বিরোধীদল যে লং মার্চ করছে, সেটার সুযোগ কি আওয়ামী লীগ নিচ্ছে কি না? রাজপথে নামার সুযোগ বিরোধীদলের কাছ থেকে পাচ্ছে কি না?…বিরোধীদলের যারা আছে লং মার্চে, তারা বিশেষ করে আপনাকে টার্গেট করে বেশি বক্তব্য দিচ্ছে, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই, ভালোর দিকে যাচ্ছে না’—এই বিষয়ে আসলে আপনার মতামত কী?’’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিরোধী দল যখন সমালোচনা করে, সেটা আমরা মনোযোগের সাথে নিই। লং মার্চের তাদের কিছু দাবি ছিল—বিরোধীদলের, সেই দাবিগুলো নিয়ে তারা লং মার্চ করেছে, করতেই পারে। এটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে।
আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সেই কর্মসূচি পালন করতে পারে, সহযোগিতা করা। আমরা করেছি। চট্টগ্রামে লং মার্চ করেছে, কোথাও কোনো দুর্ঘটনা হয়নি, সহিংসতা হয়নি, কোনো ক্ল্যাশ হয়নি। কালকে উত্তরাঞ্চলে লং মার্চ করেছে ঢাকা থেকে, শান্তিপূর্ণভাবে করেছে। তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে।
এখন তাদের দাবি, বিভিন্ন রকমের দাবি থাকতে পারে, সেই দাবির পক্ষে যদি জনগণ থাকে, তখন সেটা জনগণ কথা বলবে। পাঁচ বছর পরে নির্বাচন হবে বিধি মোতাবেক, নিয়ম মোতাবেক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। তখন জনমত কাদের পক্ষে যায়, সেটা তখন দেখা যাবে। এখন এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং রাজধানীতে সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কথাও এসেছে।

