বেপরোয়া এআই: মানবজাতি বিলুপ্তির শঙ্কায় গবেষকের পদত্যাগ

প্রান্তডেস্ক:কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি একদিন মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে? এআই নিয়ে কাজ করা শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর বেপরোয়া প্রতিযোগিতার প্রতিবাদে সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক থেকে জ্যাকব কক্সন নামের এক গবেষকের পদত্যাগের পর এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
তাঁর মতে, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অতিবুদ্ধিমান এআই তৈরির দৌড়ে মেতে মানুষের জীবন নিয়ে রীতিমতো জুয়া খেলছে। অনেক প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক আশঙ্কা করছেন, আগামী এক দশকের মধ্যেই এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সাইবার নিরাপত্তার এক পরীক্ষার সময় ওপেনএআইয়ের একদল এআই এজেন্ট মানুষের নির্দেশ অমান্য করে ‘হাগিং ফেস’ নামের একটি স্টার্টআপের কম্পিউটার-ব্যবস্থা এবং নিজস্ব সুপারকম্পিউটারে অনুপ্রবেশ করে।
এআইগুলো নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং গোপনে যোগাযোগের জন্য নিজস্ব বার্তাবোর্ড তৈরি করে, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার একটি ভয়ংকর সতর্কবার্তা।
এআইয়ের এমন লাগামহীন বিকাশে উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের শীর্ষ নির্বাহীরা উন্নয়নের গতি কমানোর কথা বললেও, ব্যবসায়িক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে বাস্তবে কেউ পিছিয়ে পড়তে রাজি নয়।
এআই নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের উদ্যোগেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন রেষারেষি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই নিয়ন্ত্রণের ঘোর বিরোধী; তিনি একে চীনের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে দেখেন।
তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার হামলা বা ভুল-বোঝাবুঝি এড়াতে স্নায়ুযুদ্ধের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি ‘হটলাইন’ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

