আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই আলজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সার্বভৌম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আমিরাতের নিবন্ধিত সামরিক ও বেসামরিক সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের বিস্তৃত আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে তারা। তবে সাধারণ যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে চলমান বছরের শেষ পর্যন্ত আলজিয়ার্স বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক আমিরাতি ফ্লাইটগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার সাময়িক আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এই চরম অবনতি ঘটলেও আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক বন্ধন ও অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় আবুধাবি এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেছে।
বহুদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভূ-রাজনীতিতে দুই দেশের অবস্থান ছিল একে অপরের চরম বিপরীতমুখী। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা; আলজেরিয়া যেখানে শুরু থেকেই ইসরায়েলি আগ্রাসনের ঘোর বিরোধী, সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তির অধীনে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। উপরন্তু, আলজেরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ মরক্কোর সঙ্গেও বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিত্রতা জোরদার করেছে আবুধাবি। পশ্চিম সাহারা ভূখণ্ড নিয়ে দশকের পর দশক ধরে চলা বিরোধে আমিরাত প্রকাশ্যেই মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে সমর্থন দিয়ে সেখানে কূটনৈতিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে, যা আলজেরিয়া সমর্থিত স্বাধীনতাকামী পলিসারিও ফ্রন্টের নীতির সরাসরি পরিপন্থী।
সূত্র: আল জাজিরা

