দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন: পুতিন ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মোদী
প্রান্তডেস্ক:নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আবহে শুক্রবারেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এনডিটিভি লিখেছে, শনিবার শুরু হতে চলা ১১ সদস্যের এই উদীয়মান অর্থনৈতিক জোটের বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে জোটের অভ্যন্তরীন মতপার্থক্য এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও নেতারা আলোচনা করবেন।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার ভোরে পালাম বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন পুতিন।
২০২২ সালে ইউক্রেইনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পরে প্রথম বার রাশিয়ার বাইরে কোনও দেশে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিলেন পুতিন। এদিন তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ব্রিকস সম্মেলন এ যোগ দিতে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ওদিকে, ২০২০ সালের লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এবার প্রথম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার প্রেক্ষাপটে দুদিনের এই সম্মেলনের ফাঁকে মোদীর সঙ্গে তারও বৈঠকের কথা রয়েছে। সম্প্রতি দুই প্রতিবেশী পরাশক্তির মধ্যে ফ্লাইট, ভিসা ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।
২০০৯ সালে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক সংস্থাগুলোতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে উদীয়মান অর্থনীতির ফোরাম হিসেবে গঠিত হয়েছিল ‘ব্রিকস’।
পরবর্তীতে জোটটির সম্প্রসারণ ঘটে এবং এতে যুক্ত হয় ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরু করা পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ নিয়ে এই তিন সদস্য দেশের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।
২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতি হিসেবে ভারত সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর পাশাপাশি অতিথি রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদেরও এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বর্ধিত ব্রিকস জোটের বর্তমান সদস্য দেশগুলো হলো, ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা সাধারণ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে মতামত বিনিময় করবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুদিনের এই সম্মেলনে বৈশ্বিক কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে।
একটি সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, “সজ্জনদের সঙ্গেই কেবল বার্তালাপ ও একসঙ্গে কাজ করা উচিত, বিতর্ক কিংবা বন্ধুত্ব, সবই গুণীজনদের সঙ্গে হওয়া বাঞ্ছনীয়, অসজ্জনদের সঙ্গে নয়।”
এই সম্মেলনে পুতিন, শি ও পেজেশকিয়ান ছাড়াও আরও নয়টি দেশের শীর্ষনেতা ও একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা অংশ নিচ্ছেন।
এর মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেনকো, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা।
আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে যোগ দিচ্ছেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন বলে সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজধানীজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার দিল্লি পুলিশ সদস্য ও ২০০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী। বসানো হয়েছে ৫০০টিরও বেশি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা, যাতে ফেসিয়াল রিকগনিশন ও নম্বর প্লেট শনাক্তকরণের সুবিধা রয়েছে।
সম্মেলনের সময়ে মথুরা রোড, সরদার প্যাটেল মার্গ, শান্তি পথ ও জনপথসহ অন্তত ৩৫টি প্রধান সড়কে সাময়িক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ডাইভারশন জারি করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে যাতায়াত এবং বিমানবন্দর থেকে দিল্লির বিভিন্ন অংশে চলাচলের ওপর সাময়িক প্রভাব পড়লেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সর্বনিম্ন রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।


