খুশিতেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তার!
পরবর্তীতে আল্ট্রাসাউন্ড এবং এনজিওগ্রাম করে চিকিৎসকরা দেখতে পান, তার হৃদপিণ্ডের রক্ত সরবরাহের ধমনীগুলোতে কোনো ধরনের ব্লকেজ বা বাধা নেই। তবে তার হৃদযন্ত্রের মূল পাম্পিং প্রকোষ্ঠ (ভেন্ট্রিকলটি) অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গিয়ে এক বিশেষ আকৃতি ধারণ করেছে। এর পাম্প করার ক্ষমতা একধাক্কায় ৫৮ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পরবর্তী সময়ে এমআরআই করে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, এর পেছনে স্থায়ী কোনো ক্ষতির দাগ বা টিস্যুর মৃত্যু ঘটেনি। এই ফলাফলের ভিত্তিতে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চিকিৎসকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, তিনি ‘তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথি’ বা সাধারণ ভাষায় ‘ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোমে’ আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কারণ দুঃখ নয় বরং পরম আনন্দ হওয়ায় একে ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা তীব্র যেকোনো আবেগের মুহূর্তে শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ ঘটে। এই হরমোনের হঠাৎ প্রভাবে হৃদযন্ত্র সাময়িকভাবে স্তব্ধ বা অসাড় হয়ে পড়ে। সাধারণত প্রিয়জনের বিয়োগ, হঠাৎ ভয় পাওয়া বা চরম দুঃসংবাদের মতো নেতিবাচক ঘটনার পর এই সিন্ড্রোম দেখা যায়। কিন্তু ২০১৬ সালে গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, অনাবিল আনন্দও এই একই ধরনের শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ ধরনের তীব্র হৃদরোগ সংক্রান্ত জটিলতার মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথি দায়ী, আর আনন্দের কারণে এই সমস্যা তৈরি হওয়ার ঘটনা এর মধ্যেও অত্যন্ত বিরল, যা মাত্র ৪ শতাংশের কাছাকাছি।
হাসপাতালে উপযুক্ত প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং হৃদযন্ত্র সচল রাখার থেরাপি দেওয়ার পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে ওঠে। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যান। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার স্বাভাবিক মাত্রা অর্থাৎ ৫৬ শতাংশে ফিরে এসেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুঃখজনিত কারণে হৃদযন্ত্র সাময়িক বিকল হওয়ার তুলনায় আনন্দজনিত কারণে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের সেরে ওঠার সম্ভাবনা ও জটিলতা কম থাকে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স

