অরুণাচলের ২৭ স্থানের ভারতীয় নামকরণ, কড়া প্রতিক্রিয়া চীনের

চীনা সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭ সাল থেকে চীনের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই প্রদেশে ছয়টি ব্যাচে নামকরণ করেছে। মোট ১১২টি নাম ২০২৬ সালের এপ্রিলে ঘোষণা করা হয়। গ্রাম, পাহাড়ি পথের পারাপার, নদী, চূড়ার মতো জায়গাগুলোর নাম দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভৌগোলিক কোঅর্ডিনেটও জানানো হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চীন অরুণাচল প্রদেশকে স্বীকৃতি দেয় না। গুয়ো জিয়াকুনের বরাত দিয়ে গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন-ভারতের সম্পর্ক এই মুহূর্তে স্থিতিশীল রয়েছে। চীন-ভারত সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে চীনের যে প্রতিশ্রুতি, সেটিও পরিবর্তন হয়নি। আমরা আশা করি যে দুই দেশ একই পথে কাজ করবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য সহায়ক হবে এমন আরও পথে ভূমিকা রাখবে।
চীনের সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ওশেন স্টাডিজের অধ্যাপক গুয়ো শুয়েটাঙ বলেন, ভারতের সর্বশেষ ২৭টি নামকরণের ঘটনা একতরফা প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং এটি ওই অঞ্চলের বৈধ অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় না।
চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ নামে ডেকে থাকে এবং নিজেদের অঞ্চল হিসেবে দেখে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন গতকাল সোমবার আবারও জানান, ভারতের অবৈধভাবে স্থাপিত ও কথিত অরুণাচল প্রদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করে না চীন।
গুয়ো আরও বলেন, ‘জাংনান চীনের অঞ্চল। চীনের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা নাম পরিবর্তনের যে চেষ্টা ভারত করেছে তা অবৈধ, বাতিল ও অকার্যকর। জাংনান অঞ্চল যে চীনের, সে বিষয়ে এটি কোনো পরিবর্তন আনছে না। অতীতে একই দাবি করা হয়েছিল ভারতের পক্ষ থেকেও।
তারাও জানিয়েছিল, অরুণাচল প্রদেশে বিভিন্ন স্থানের নামকরণ চীন করলেও সেটির কোনো প্রভাব নেই। ওই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব বা বৈধ মর্যাদায় বিষয়টি প্রভাব ফেলছে না।

