মোদীর উপর চাপ বিশ্ব সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর
দীপক মুখার্জী, কলকাতা:আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণের মাঝেই ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াল রাশিয়া। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর বাইরের চাপ সৃষ্টি করা শুধু ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতির জন্যও ক্ষতিকর।
সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চ থেকে পুতিন বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ এবং বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের চেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভারত একটি শক্তিশালী অর্থনীতি এবং স্বাভাবিকভাবেই তারা নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। এতে রাশিয়ার কোনও আপত্তি নেই। বরং মস্কো ভারতের বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ককে সম্মান করে।
ভারত-আমেরিকা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে পুতিন পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা রাশিয়া-ভারত সম্পর্ককে দুর্বল করছে—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা বরং ইতিবাচক এবং রাশিয়া সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।
তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু দেশ ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে। কিন্তু সেই চাপ উল্টো ফল দিচ্ছে বলেই মত তার।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক দ্রুত এগোচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বাণিজ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১০০ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে বলে আশাবাদী পুতিন।
তিনি বিশেষভাবে জোর দেন জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার উপর। তেল, গ্যাস এবং পারমাণবিক শক্তি সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ বাড়ছে। তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বৃহৎ উদ্যোগ ভবিষ্যতের সহযোগিতার ভিত্তি মজবুত করছে।
কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহ একাধিক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দুই দেশের বাণিজ্য রেকর্ড ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মূলত রাশিয়া থেকে তেল, সার এবং অন্যান্য পণ্য আমদানির ফলে এই বৃদ্ধি ঘটেছে।
এছাড়াও, দুই দেশ ৫০ বিলিয়ন ডলারের পারস্পরিক বিনিয়োগের লক্ষ্য স্থির করেছে এবং ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকেও এগোচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। পুতিনের এই বার্তা স্পষ্ট—ভারত একটি স্বাধীন শক্তি, এবং তাকে চাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বরং সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানই ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে।


