জাপানে মসজিদ উদ্বোধন করে বিপাকে পাকিস্তান
প্রান্তডেস্ক:জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের কাওয়াগোয়ে শহরে স্থানীয় নগর উন্নয়ন আইন অমান্য করে যথাযথ অনুমতি ছাড়া একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে টোকিও কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে কারণ চলতি বছরের শুরুর দিকে জাপানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন।
জাপানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পর টোকিওতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস এই মসজিদ প্রকল্প থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
কাওয়াগোয়ে সিটি কর্পোরেশন এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, নগর পরিকল্পনা আইনের তোয়াক্কা না করে এবং নগর প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের বৈধ ছাড়পত্র বা অনুমতি না নিয়েই এই মসজিদ ভবনটি অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে।
এই বিষয়ে পাকিস্তান দূতাবাস গত ৩১ মে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা রাষ্ট্রদূতকে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন যে জাপানি আইন মেনে সব ধরণের সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়েছে এবং সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্রদূত সেখানে গিয়েছিলেন। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, স্থানীয় আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা এই ধরণের কোনো প্রকল্পের সাথে পাকিস্তান সরকারের বিন্দুমাত্র কোনো আর্থিক বা সাংগঠনিক সংযোগ নেই।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ জাপানে মসজিদ উদ্বোধন করেন।
এদিকে জাপানের প্রাচীনতম ‘ইয়াশিও মসজিদ’ কমিটির প্রতিনিধি ৬২ বছর বয়সি পাকিস্তানি নাগরিক শাকিল শেখ মোহাম্মদ কাওয়াগোয়ের এই অবৈধ মসজিদ প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া এভাবে ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ করা মোটেও ভালো কাজ নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় জাপানি অধিবাসীদের সাথে সুসম্পর্ক এবং দেশের আইন বজায় রাখার মাধ্যমেই কেবল একটি মসজিদের পবিত্র পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের জেরে টোকিওর পাকিস্তান দূতাবাস গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাপানে বসবাসরত সকল পাকিস্তানি নাগরিককে ধর্মীয় স্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে জাপানি আইন ও স্থানীয় সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

