ট্রাম্প-পুতিনের ঘনিষ্ঠ অরবান হেরে গেলেন হাঙ্গেরির নির্বাচনে, জয়ী কে?

ওয়াশিংটন পোস্ট ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে ৯৮ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে পিটারের মধ্যডানপন্থী তিসজা পার্টি পেয়েছে ১৩৮টি আসন। বিপরীতে অরবানের জাতীয়তাবাদী দল ফিদেজ পেয়েছে ৫৫টি আসন এবং কট্টর ডানপন্থী আওয়ার হোমল্যান্ড পেয়েছে ৬টি আসন।

আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হওয়ার আগেই পরাজয় মেনে নিয়ে পিটার মাজিয়ারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অরবান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিটার জানান, ফলাফল আসতে শুরু করার পর অরবান নিজেই ফোন করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিজয়ের পর রাজধানী বুদাপেস্টের দানিয়ুব নদীর তীরে হাজারো সমর্থক জড়ো হয়ে উল্লাস করেন। এ সময় পিটার বলেন, আজকের ভোটে মানুষ নতুন ইতিহাস লিখেছে। তিনি বলেন, মানুষ অপেক্ষা না করে নিজেরাই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ বেছে নিয়েছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে পিটার আরও বলেন, আজ রাতে মিথ্যার পরাজয় হয়েছে, সত্যের জয় হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন হাঙ্গেরি গড়ে তুলবেন।
অন্যদিকে অরবান এই ফলাফলকে বেদনাদায়ক উল্লেখ করে বলেন, জনগণ এবার তাদের দায়িত্ব দেয়নি। তিনি জানান, বিরোধী দল হিসেবে দেশ ও জাতির সেবা চালিয়ে যাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের একক প্রভাব হারিয়ে হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বুদাপেস্টভিত্তিক বিশ্লেষক গারগেলি রেজনাই বলেন, এতদিন ফিদেজের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অরবান একচ্ছত্রভাবে শাসন করতে পেরেছিলেন, এখন সেই পরিস্থিতি বদলে যাবে।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল নজিরবিহীন। দেশটির জাতীয় নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে, ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশের বেশি, যা কমিউনিস্ট-পরবর্তী ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এই ফলাফল শুধু হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

