প্রান্তডেস্ক:ফ্রান্সের রাজনৈতিক দল ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিজ’ (এলএফআই) থেকে নির্বাচিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মুসলিম সদস্য রিমা হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ১৯৭০-এর দশকে ইসরায়েলি বিমানবন্দরে একটি সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
এলএফআই নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ এই গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়েন জানিয়েছে, রিমা হাসানের পোস্টটি ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে উস্কানি’ হিসেবে গণ্য হতে পারে এমন সন্দেহে কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করেছে।
তদন্তকারীদের মতে, রিমা হাসানের বিতর্কিত পোস্টটি ছিল ১৯৭২ সালে তেল আবিবের লোদ বিমানবন্দরে জাপানি রেড আর্মি নামক একটি উগ্র বামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর চালানো হামলার বিষয়ে। সেই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। রিমা হাসান তার এক্স অ্যাকাউন্টে সেই হামলার জন্য দায়ী একজন দণ্ডিত ব্যক্তির মন্তব্য উদ্ধৃত করেছিলেন, যেখানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কথিত ‘নিপীড়নের’ দোহাই দিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
যদিও পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন, তবে ফরাসি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো একে জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করছে। রিমা হাসান বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ফ্রান্সের প্রধান বিরোধী দল এলএফআই-এর নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ সরব হয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুলিশ আবারও রিমা হাসানকে একটি রি-টুইটের কারণে হেফাজতে নিয়েছে।
মেলঁশোঁ প্রশ্ন তোলেন, ফ্রান্সে কি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের জন্য কোনো সংসদীয় দায়মুক্তি বা ‘পার্লামেন্টারি ইমিউনিটি’ অবশিষ্ট নেই? তিনি এই গ্রেপ্তারকে ‘অসহনীয়’ এবং বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফ্রান্সে বামপন্থী দলগুলোর জোট ‘নভঁ পপুলার’-এর নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিনেই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
বর্তমানে ফ্রান্সে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো উস্কানিমূলক বার্তার ওপর সরকারের কঠোর নজরদারি রয়েছে। রিমা হাসানের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, রিমা হাসান এর আগেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব হয়ে একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। ফরাসি বিচার বিভাগ এখন খতিয়ে দেখছে যে তার করা পোস্টটি সরাসরি সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করেছে কি না। এই ঘটনার পর ফ্রান্সে সংসদীয় অধিকার ও বাকস্বাধীনতার সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স