ঈদসামগ্রী বিতরণ:: জামায়াতের বক্তব্য নিয়ে চীনা দূতাবাসের উদ্বেগ

প্রান্তডেস্ক:রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে গত মঙ্গলবার চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন
বাংলাদেশের চীনা দূতাবাস গত মঙ্গলবার ঢাকা-১৫ আসন এলাকায় এক হাজারের বেশি মানুষকে ঈদসামগ্রী দিয়েছে। এ অনুদানকে যৌথ বলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অনুদান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জামায়াতের কিছু পোস্টের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে দূতাবাস।
ঈদসামগ্রী বিতরণের সময় ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং চীনের রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিতর্ক শুরু হয় জামায়াতের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে।
মঙ্গলবার দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর এক পোস্ট থেকে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। দলটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে জানায়, মিরপুর-১০ এ অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও চীনের যৌথ উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত থেকে ফুডপ্যাক বিতরণ করেন আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সর্বশেষ রাত ১১টা ২৩ মিনিটে দলটি জানায়, ‘১৭ মার্চ, মঙ্গলবার বেলা ১১টায়, ঢাকাস্থ চায়না এমবাসির পক্ষ থেকে ঢাকা-১৫ আসনের জনসাধারণের জন্য ফুড প্যাকেট উপহার প্রদান করা হয়। এ সময় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ চায়না এমবাসির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) এবং চায়না এমবাসির পলিটিক্যাল ডিরেক্টর।’
একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চীনা দূতাবাস জানায়, ‘১৭ই মার্চ, বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য ঈদুল ফিতরের খাদ্য সামগ্রী দান করেছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাজারেরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেছেন।’ রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন ও বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগী অংশীদার। ঈদুল ফিতর হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আশীর্বাদ বিনিময়ের সময়। এই দানের মাধ্যমে চীন একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব উদযাপনে বাসিন্দাদের প্রতি উষ্ণতা ও সমর্থন জানাতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীন ও বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের একটি সম্প্রদায়। চীন এমন আরও প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে যা জনগণের উপকারে আসবে এবং উভয় দেশের কল্যাণ বৃদ্ধি করবে।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এই উদার দানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনের আন্তরিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন। তিনি চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি দুই দেশের আন্তঃদলীয় বিনিময় গভীরতর করা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর আগে গত বছর গাজীপুরে কম্বল বিতরণের এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ও চীনা রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।

