কেরালায় ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ‘মস্তিষ্কখেকো’ অ্যামিবা

ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে সুইমিং পুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষার জন্য পানির নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা আসলে কী?কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রবি শঙ্করের মতে, এই অ্যামিবা নাক দিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এই রোগের পরিণতি মৃত্যু। তবে সতর্ক থাকলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। কেরালার আবহাওয়া উষ্ণ। বিশেষত জলাশয় থেকেই এই রোগের উৎপত্তি। বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে নেগেলেরিয়া ফাওলেরি বলা হয়।
ডা. শঙ্করের মতে, অ্যামিবা নিজেই মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে যেখানকার পানিতে অ্যামিবা রয়েছে, সেখানে যদি কেউ স্নান করে বা সাঁতার কাটতে গিয়ে নাকের ভিতরে পানিতে ঢুকে যায়, তখন অ্যামিবা নাকের টিস্যু থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। সেখানে মেনিনজাইটিসের মতো রোগের সৃষ্টি করে। তাদের খাদ্য হয়ে ওঠে মস্তিষ্কের বিভিন্ন টিস্যু। তবে এই রোগ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। অর্থাৎ সংক্রামক নয়। কিন্তু এই অসুখের সবচেয়ে খারাপ দিক হল, এখনও পর্যন্ত এর কোনও চিকিৎসা জানা নেই মানুষের। এছাড়াও রোগ দ্রুত ছড়ানোয় চিকিৎসারও সময় মেলে না। এই নাবালকের ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাঁতার কাটার পর যদি মাথাব্যথা, জ্বর বা ঘাড়ে ব্যথা হয়, তাহলে অবিলম্বে কোনও ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এই রোগে স্নায়ুবিক সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। এটি সিএসএফ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যেতে পারে, তবে রোগটি হতে না দেওয়াই সবথেকে ভাল বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

