যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন-ভারতের বড় পতন, চাপে বাংলাদেশ

প্রান্তডেস্ক:বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক আমদানির বাজার যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে পোশাক আমদানি কমেছে ৬.১৪ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকেও পোশাক আমদানি কমেছে ৪.৫৭ শতাংশ।
মাসভিত্তিক হিসাবেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
প্রতিযোগী দেশগুলোর চিত্র : যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন ও ভারত। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে চীন থেকে পোশাক আমদানি কমেছে ২৩.০৮ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে এই পতন আরো বেশি, ২৫.১৯ শতাংশ। পাকিস্তান থেকেও আমদানি কমেছে ৩.৬৭ শতাংশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়েছে ০.২৬ শতাংশ। কম্বোডিয়া থেকে বেড়েছে ৬.৪২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ২.৮১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বাজার ধরে রাখা ও সম্প্রসারণে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। চীন ও ভারতের রপ্তানিতে বড় পতনের মধ্যেও ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রেতাদের সোর্সিং সিদ্ধান্ত, পণ্যের দাম, সরবরাহ সক্ষমতা ও উৎপাদন দক্ষতার ওপর প্রতিযোগিতার ফল নির্ভর করছে।
কমছে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম : রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি পণ্যের গড় ইউনিট মূল্যের প্রবণতাও বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ২.১৪ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা কমেছে ০.৯৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহিউদ্দিন রুবেলের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ও ভারতের রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শুধু কম দামে পোশাক সরবরাহের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা, মান ও সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

