অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন :: নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
প্রান্তডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি খারাপ ফল করলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর অনুমোদন দিতে পারেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘তিনি যদি নিজেকে অপমানিত বা ক্ষমতাহীন মনে করেন, তাহলে বড় কোনো দুঃসাহসী পদক্ষেপ নেবেন।’
ইরানের কর্মকর্তাদের কাছেও এমন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাদের বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগ এখনই।
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ ধারণা নাকচ করে বলেছেন, ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্বাচনের ফলাফলের কোনো প্রভাব পড়বে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। শুক্রবার তেহরানে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। এ সময় তারা নিয়মিত হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।
এক কূটনৈতিক সূত্র আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতির’ কথা জানিয়েছে। আজ শনিবারও (৩১ অক্টোবর) দোহায় এ আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।
তবে দুই দেশের পালটাপালটি শর্তের কারণে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
ওয়াশিংটন চায়, আলোচনায় ফেরার আগে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে হবে। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি—যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করতে হবে এবং তেল বিক্রির সুযোগ দিতে হবে।
এ ছাড়া ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো পরিদর্শনে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেওয়ার জন্য তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কাতার। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর সীমিত পরিসরে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা নাকি আরও সামরিক চাপ—এ প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে সন্দিহান। তারা দেশটির বর্তমান নেতৃত্বকে আরও দুর্বল করার পক্ষে।
অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে একদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

