মহকাশে ভারতের নতুন সাফল্য ::নাভিকের শক্তি বাড়াতে ইসরোর সফল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

ইসরোর বিজ্ঞানীরা আশা করছেণ ভারতীয় দিকনির্ণয়কারী ব্যবস্থা ‘নাভিক’ (নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন)-কে শক্তিশালী করতে এই স্যাটেলাইটের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের পর শনিবার সকালে ইসরোর বিজ্ঞানীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লিখেছেন, ‘‘আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা, উদ্ভাবনী শক্তি দেশকে গর্বিত করে চলেছে। এই মিশন আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অত্যাধুনিক ক্ষমতাসম্পন্ন এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইট বিভিন্ন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের স্বনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে দেবে। সাধারণ মানুষের উপকার হবে এতে।’’
বর্তমানে রাস্তাঘাটে দিকনির্ণয়, মানচিত্রে কোনও সঠিক অবস্থান খোঁজা কিংবা সময় গণনার ক্ষেত্রে আমাদের অনেকাংশেই আমেরিকার প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। এনভিএস-০৩ নামক কৃত্রিম উপগ্রহটিতে আছে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রুবিডিয়াম পারমাণবিক ঘড়ি (রুবিডিয়াম অ্যাটমিক ক্লক), যার ফলে এই স্যাটেলাইট সরাসরি এল১, এল৫ এবং এস ব্যান্ডে সঙ্কেত পাঠাতে পারবে। আমরা যে সাধারণ স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করি, তার চিপের সঙ্গে এল১ ব্যান্ড সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে সাধারণ মানুষ ম্যাপে আরও নিখুঁত তথ্য পাবেন। সময়ের গণনাও এই স্যাটেলাইটের তথ্যের মাধ্যমে আরও নির্ভুল হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস-এর উপর নির্ভরশীলতা কমাতে ভারত সম্পূর্ণ নিজস্ব ভূ-ভিত্তিক সময় গণনা পদ্ধতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। দেশের পাঁচটি শহরে রিজিওনাল রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড ল্যাবরেটরিজ়ে জাতীয় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেকেন্ডারি টাইম-স্কেল গড়ে তোলা হয়েছে। এই পাঁচটি শহর হল, গুয়াহাটি, ভুবনেশ্বর, বেঙ্গালুরু, অহমদাবাদ এবং ফরিদাবাদ। এই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও নিখুঁত করে তুলবে ইসরোর নতুন স্যাটেলাইট।
এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইটটির ওজন প্রায় ২২৫০ কিলোগ্রাম। এটি ইসরোর পরবর্তী প্রজন্মের দিকনির্ণয়কারী স্যাটেলাইট সিরিজ়ের তৃতীয় উৎক্ষেপণ। তা ছাড়া, জিএসএলভি রকেট এই নিয়ে ২০ বার সফল ভাবে মহাকাশে পাঠাল ভারত। সূত্র: আনন্দবাজার

