জাপান সফরে ৩-৪টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা

তিনি বলেন, সফর উপলক্ষে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করা হচ্ছে, এর মধ্যে তিন-চারটি স্বাক্ষরিত হবে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২৭ অক্টোবর
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। সফরসূচিতে চিবা শহরের এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, নিউক্লিয়ার হেডকোয়ার্টার্স এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথাও রয়েছে।
আলোচনায় মেট্রো রেল প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদ
মেট্রো রেল লাইন-১ ও লাইন-৫-এর ব্যয় যথাক্রমে ৮৩ শতাংশ ও ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাপানের সঙ্গে আলোচনা হবে কি না, জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়গুলো দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচিত হবে। মেগা প্রকল্প ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতা রয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
জাপানের ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের কাছ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চায়। তবে ঋণের সুদের হার সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে। এ বিষয়ে আলোচনার ফল পরে জানানো হবে।
ইপিএ কার্যকর হলে খাতভিত্তিক প্রভাব পর্যালোচনা
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সই হওয়া ইপিএ কার্যকর হলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ১০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, চুক্তিটি কার্যকরের আগে জাপানের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। সেই প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তা সম্পন্ন হলে চুক্তি কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, ইপিএ একটি সামগ্রিক চুক্তি। কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধা তৈরি হলে অন্য কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর কোন কোন খাত কী কারণে অসুবিধায় পড়ছে, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে। তার মতে, সামগ্রিকভাবে দুই দেশই এ চুক্তি থেকে উপকৃত হবে।
নতুন বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি কম্পানির কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে জাপানের সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক আলোচনায় থাকবে।
মাতারবাড়ী বন্দর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান
মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়ন এবং এ প্রকল্পের মাধ্যমে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে বন্দর অবকাঠামোর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে ১০ বছর পর বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করবে, তা সামাল দেওয়ার মতো কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা বন্দরে থাকা প্রয়োজন। এ প্রয়োজনীয়তা থেকেই মাতারবাড়ী বন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এসেছে। ভবিষ্যতে সক্ষমতার ঘাটতি বা অতিরিক্ত অব্যবহৃত সক্ষমতা দেখা দিলে সে অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও বৈশ্বিক ইস্যু
পররাষ্ট্রসচিব জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত অবসানে যৌথ ভূমিকা রাখার বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

