‘জামায়াতী আদর্শের বিস্তারের’ অভিযোগ তুলে এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় নেতা

ফাইল ছবি
প্রান্তডেস্ক:জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব ছেড়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আবদুর রহমান। তার অভিযোগ, দলটি মূল আদর্শ ও ঘোষিত লক্ষ্য থেকে সরে গেছে।
আবদুর রহমানের দাবি, নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক জোট করার ফলে দলে বড় পরিবর্তন এসেছে। তার ভাষ্য, কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাগরিক কমিটির হাত ধরে এনসিপি গঠনের কাজে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন। তখন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তার মনে ছিল। বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি তাকে এই দলে টেনেছিল।
তবে দলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের পরের অবস্থান নিয়ে তিনি গভীর হতাশা জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক জোট এবং আদর্শিক জোট কখনো এক হবে না’, এমন আশা নিয়ে তিনি দলে ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক জোটটি আদর্শিক জোটে রূপ নিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতকে ঘিরে দলের ভেতরে দ্বিচারিতা বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠাকালীন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় নেতাকর্মী ইতিমধ্যে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
সহকর্মীদের আচরণ নিয়েও তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ইতিহাস নিয়ে নিজের মত দেওয়ায় তাকে ‘মুজিববাদী’ তকমা দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের পরিপন্থী।
আবদুর রহমান জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন দলের শাসনের ইতিহাস দুটি আলাদা বিষয়। কিন্তু এখন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের অবস্থান জামায়াত-শিবিরের মূল বক্তব্যের সঙ্গে মিশে গেছে। এতে দলের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আদর্শ ও নৈতিকতার দিক থেকে এনসিপির সঙ্গে পথ চলা আর সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। তাই তার পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর করার অনুরোধ করেছেন। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকলেও তিনি আশা করেন, এনসিপি ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক পথচলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এনসিপির সদ্য পদত্যাগ করা এই নেতা একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সংগঠনটি বর্তমানে নিষিদ্ধ। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্ধিত কমিটিতেও সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবশ্য তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
অভ্যুত্থানের পর এই আব্দুর রহমান এনসিপির রাজনীতিতে যোগ দেন। এমনকি তার নাম ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায়ও। যদিও এনসিপি পরবর্তীতে জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেলে তিনি মনোনয়ন পাননি।

