রাশিয়ায় কাজের খোঁজে গিয়ে যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা

প্রান্তডেস্ক:উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ রণাঙ্গনে আটকে পড়েছেন একাধিক বাংলাদেশি তরুণ। প্রলোভন ও ভাষা না জানার সুযোগ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করা হয়েছে। এরপর তাঁদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে।
সেখানে দাঁড়িয়ে এখন তাঁদের প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হচ্ছে জীবন-মৃত্যুর কঠিন বাস্তবতার।
চুক্তিপত্রের অবোধ্য ভাষা ও প্রতারণা: টাঙ্গাইলের তরুণ রাজন হোসাইন যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জানান, তাঁরা কাজের সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাষা না বুঝতে পেরে রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রে সই করাই তাঁদের জন্য কাল হয়েছে।
নথিপত্রের শর্তগুলো না বুঝেই সই করার পর তাঁদের সরাসরি পাঠানো হয় সম্মুখসমরে। রাজন স্বীকার করেন, এই সিদ্ধান্তটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।
ভাষাগত জটিলতা ও বকেয়া বেতন: প্রশিক্ষণের সময় থেকে শুরু করে কমান্ড বোঝার ক্ষেত্রেও ভাষাগত জটিলতায় চরম বিপদে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। রাজন আরও জানান, জীবন বাজি রেখে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করলেও গত তিন মাস ধরে প্রাপ্য বেতন পাচ্ছেন না তিনি।
বিভিন্ন দেশের তরুণদের মর্মান্তিক পরিণতি: রণক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতার কথা তুলে ধরে এই তরুণ জানান, কেবল বাংলাদেশিরাই নন; কলম্বিয়া, কিউবা, জিম্বাবুয়ে, চাদ ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরাও একই পরিস্থিতিতে সেখানে আটকে আছেন।
যুদ্ধের ময়দানে ইতোমধ্যে একাধিক বাংলাদেশির মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। সিলেটের আবু সালেহ দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং বিক্রমপুরের আহমেদ সাকিব প্রাণ হারিয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজন আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন।
কূটনৈতিক সহায়তার পথ বন্ধ: সামরিক নিয়ম অনুযায়ী সেখান থেকে চুক্তি বাতিল করে দেশে ফিরে আসাও এখন অসম্ভব। চুক্তিপত্রে ‘স্বেচ্ছায় যোগদানের’ কথা লেখা থাকায় আইনি বা কূটনৈতিক সহায়তার পথও বন্ধ। ফলে এ ধরনের ফাঁদে আটকে পড়ার পর সাহায্য করার মতো অবস্থান দূতাবাসেরও থাকছে না। স্বজনদের আকুল আকুতি সত্ত্বেও তরুণদের ফিরিয়ে আনা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

