প্রান্তডেস্ক:নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ এখন একটি ‘স্ট্রং ফরেন পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক’ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নতুন সরকারের বয়স প্রায় ছয় মাসের মতো হয়েছে; কিন্তু প্রথম দিন থেকেই আমরা এই নীতি বাস্তবায়ন করেছি—যাতে বিশ্বমঞ্চে আমাদের সমস্ত পররাষ্ট্র সম্পর্কের মাঝে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। আপনি বেইজিং বলুন, ওয়াশিংটন বলুন, মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরব বলুন কিংবা রাশিয়া বলুন—প্রত্যেকের সঙ্গে আমাদের চমৎকার ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বেইজিং, ওয়াশিংটন, রিয়াদসহ অন্যান্য শক্তিশালী দেশের সঙ্গে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই একটি গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ তৈরি হয়েছে।’
গত ২ জুন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন। এই প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে জয় পেলাম। সেখানে বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও দৃশ্যমানতা অনন্য উচ্চতায় গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনও দেখেছেন টু-প্লাস-টু প্রস্তাব দিয়েছে; যা দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ, তা শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি এসেছে। তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি (ট্রাম্প) চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন—তিনি বিশ্বাস করেন যে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের জনগণ একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের (ব্রাইট ফিউচার) দিকে এগিয়ে যাবে।’
এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের হাজারটা সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ থাকুক না কেন, আলাপ-আলোচনার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং এটাই রাখা উচিত। স্বাভাবিকভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আপনাদের মনে একটা প্রশ্ন ছিল; আমি নিজেই সে প্রশ্ন উত্থাপন করে পরিষ্কার করছি; ভারতের সঙ্গে আমরা এমনভাবেই যোগাযোগ চাই—তারা আমাদের প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে আমাদের গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ প্রয়োজন। চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে।’
মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী পক্ষ গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। আজ বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে অবদান রাখছে। শান্তিরক্ষায় আমরা বিশ্বমানের অভিজ্ঞ এবং আমাদের রয়েছে অত্যন্ত দক্ষ ও সুশৃঙ্খল সশস্ত্র বাহিনী। ফলে এই পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি বিশ্বের আগ্রহ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বজুড়ে যদি আমরা শান্তি বজায় রাখতে পারি, তবে মুসলিম বিশ্বের যেকোনো উদ্যোগে কেন পারবো না? অবশ্যই পারবো। সেই দিক থেকেও আলোচনা এগিয়ে চলছে; দেখা যাক, কী অগ্রগতি হয়। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যাবো।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানের এই অত্যন্ত অস্থির ও পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায়—একটি জোটে থাকলে যে অন্য জোটে অংশগ্রহণ করা যাবে না, বিষয়টি মোটেই তেমন নয়। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হলে পররাষ্ট্রনীতিকে অত্যন্ত নমনীয় ও গতিশীল হতে হবে। কোনো ধরনের একগুঁয়েমি বা অনমনীয়তা (রিজিডিটি) দিয়ে জাতীয় স্বার্থ হাসিল করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ আপনার মূল দর্শন সুরক্ষিত থাকে—আর আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (সবার আগে বাংলাদেশ)। জনগণের কল্যাণ এবং দেশের সার্বভৌম জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করেই আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবো।’
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে। মাঝে-মধ্যে এয়ারবাসও কিনবো। এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে এটা কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রফতানি হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।