প্রান্তডেস্ক:কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের নেতা ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং।
বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়ার মধ্যেই সোমবার (৩১ আগস্ট) দুই নেতার এই বৈঠক হয়। মে মাসের পর এটি ছিল তাদের প্রথম সাক্ষাৎ।
শি জিনপিং পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আবার দেখা হওয়ায় তিনি ‘আনন্দিত’। ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও “দৃঢ়” হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ‘অনিশ্চয়তা ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’ বেড়ে গেলেও বেইজিং-মস্কোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
তিনি বলেন, সামনে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘আরও উজ্জ্বল’ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা ও অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের মাত্রা যে স্পষ্টভাবেই বেড়েছে, সেটিও উল্লেখ করেন তিনি।
পুতিনও শির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে ‘সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়ে চলছে’।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে দুই দিনের এসসিও সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এই জোটের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্মেলনে এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সংলাপ অংশীদার হিসেবে সম্মেলনে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সাড়ে চার বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ছয় মাসের মাথায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন এসসিও সম্মেলনকে কাজে লাগিয়ে পুতিন ও শি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শন করেছেন।
ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্রমেই চীনের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ কারণে মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো।
তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রুশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুতিন ও শির আলোচনায় মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্কই প্রাধান্য পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তারা শুধু ‘প্রসঙ্গক্রমে’ কথা বলেছেন।