৫০০টাকা মজুরিসহ ৪ দাবিতে সিলেটে কর্মবিরতিতে চা শ্রমিকরা

প্রান্তডেস্ক:চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫শ টাকা নির্ধারণ, অবিলম্বে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনসহ চার দাবিতে ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতি শুরু করছেন সিলেটের ২৩ টি বাগানের চা শ্রমিকরা।
বুধবার এ কর্মবিরতি শুরু হয়। যা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। শ্রমিকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
চা শ্রমিকদের আরও দুই দাবি হচ্ছে- গেজেট-২০২৩ বাতিল এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা।
প্রায় ১মাস ধরে চা শ্রমিকরা ৫শ টাকা মজুরি, ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং ভূমি অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বুধবার থেকে সিলেট ভ্যালির প্রতিটি বাগানে ২ঘন্টা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি শুরু করেন তারা।
এরআগে গত ৯ আগস্ট চার দফা দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন চা শ্রমিকরা।
সেদিন দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে চা শ্রমিকরা প্রশাসনকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগী না হলে সিলেটের ২৩টি বাগানের শ্রমিকরা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে দাবি আদায় না হওয়ায় দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি শুরু করেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।
বুধবার থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। যা সকাল ৯টা থেকে ১১ টা চলে। মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান, খাদিমসহ সিলেট ভ্যালির সব বাগানেই কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।
মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিক ও চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক বৃহস্পতিবার জানান, বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭টাকা। আজকের দিনে এই মজুরি দিয়ে কোন ভাবেই একটি পরিবার দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে চলতে পারে না। তাই দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবিসহ চার দফ দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা। এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দালন চলবে।
বুরজান চা বাগানের শ্রমিক সাইদুল রহমান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় অনেক বাগানে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কমিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত প্রদানের দাবি আমাদের।
লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিক রঘু দাস বলেন, এখন আমরা প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হলে টানা কর্মবিরতি শুরু হবে।
এ ব্যাপােরে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শ্রমিকদের স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। নির্বাচনটি আয়োজন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচনের আয়োজন করবে।
এদিকে, গত ১৪ আগস্ট দাবি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সাক্ষাৎকালে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ শ্রমিকের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত ৮ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
এসময় মন্ত্রী আরিফুল হক জানান, চা বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হবে। ওই টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

