প্রান্তডেস্ক: ছয় মাসেই সকলের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ‘বিগত ছয় মাসে বিএনপি সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করেছে।’
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন অর্থাৎ ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সরকারের গত ছয় মাসের নানামুখী কর্মকাণ্ড, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।
বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতির প্রতিটি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘ভোটের কালি শুকানোর আগেই ইশতেহারে দেওয়া কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।’তিনি জানান, দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসন ব্যবস্থার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার।আরও বলেন, ‘১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দেশকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।’অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন পে–স্কেল প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে একাধিক কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য ও ব্যবসায় গতি আনতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক বিনিয়োগবান্ধব নতুন নীতিমালা গ্রহণ করেছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও সফলতার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় আসার মাধ্যমে দেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটেছে। এখন থেকে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হচ্ছে।’
যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব উন্নত নাগরিক সেবার অংশ হিসেবে শিগগিরই দেশে ২০০টি নতুন ইলেকট্রনিক বাস চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের আইনকানুন ও জনসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পুলিশ ও সেবাধর্মী প্রশাসন গড়ে তোলা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।সভা শেষে সরকারের প্রতিনিধিরা জানান, ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।