চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে পদত্যাগের পর কেমব্রিজের অধ্যাপককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার

অধ্যাপক জেসন আরডে। ছবি: আইটিভি/শাটারস্টক
প্রান্তডেস্ক:চৌর্যবৃত্তি বা অন্যের লেখা নিজের নামে ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে থাকা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডে মারা গেছেন। শুক্রবার দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসি এলাকায় একটি ঠিকানা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ব্যাটারসির ওই ঠিকানায় একজন ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশকে ডাকা হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সম্প্রতি গবেষণায় প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ এবং তার কিছু একাডেমিক অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর গত সপ্তাহে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আরডে। তিনি অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্লেজিয়ারিজম করার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
এরপরও বিতর্ক চলতে থাকে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আরডের নিয়োগ ও একাডেমিক কাজ নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরাহ প্রেন্টিস জানিয়েছিলেন, তদন্তটি পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে পরিচালনা করা হবে।
পদত্যাগের সময় আরডে বলেছিলেন, তাকে নিয়ে চলমান অভিযোগ, জল্পনা-কল্পনা ও জনসমালোচনা তার এবং তার পরিবারের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিষয়টি একাডেমিক মতপার্থক্যের সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে গেছে।
আরডের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তাকে হারিয়ে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। আরডেকে একজন অসাধারণ বাবা, জীবনসঙ্গী, ভাই, চাচা-মামা ও সন্তান হিসেবে স্মরণ করেছেন। পরিবারের দাবি, তাকে নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচারণা তার জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। আরডে ছিলেন কোমল স্বভাবের মানুষ, যিনি সবসময় অন্যদের ভালো দিকটি দেখার চেষ্টা করতেন।
আরডের বন্ধু ও ব্ল্যাক স্টাডিজের অধ্যাপক কেহিন্ডে অ্যান্ড্রুস জানান, কেমব্রিজ থেকে পদত্যাগের পর আরডে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আরডে ঘর থেকে বের হওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং তার ওজনও অনেক কমে গিয়েছিল।
২০২৩ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আলোচনায় আসেন আরডে। তিনি শিক্ষা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা করতেন। কেমব্রিজের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে তার নিয়োগ সে সময় উচ্চশিক্ষায় বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল।
আরডে শৈশব থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি ১১ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারেননি এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনা ও লেখার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে গিয়ে পিএইচডি অর্জন করেন এবং ডারহাম ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরাহ প্রেন্টিস আরডের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এই কঠিন সময়ে আরডের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েলও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
আরডের মৃত্যুর পর তার নিয়োগ প্রক্রিয়া, একাডেমিক কাজের যাচাই এবং তীব্র জনসমালোচনার মধ্যে একজন শিক্ষাবিদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সাবেক কর্মস্থল গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ও তার আগের একাডেমিক কাজ পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে।
আরডের স্মৃতিকথা ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’-এ তার শৈশব, পড়াশোনার সংগ্রাম, একাডেমিক জীবনের সাফল্য ও ব্যর্থতা এবং কেমব্রিজের অধ্যাপক হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

