স্বেচ্ছাসেবাই সমাজ বদলের সবচেয়ে বড় শক্তি : ইমদাদুল হক মিলন
প্রান্তডেস্ক:বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেছেন, স্বেচ্ছাসেবাই সমাজ বদলের ও দুর্যোগ মোকাবেলার সবচেয়ে বড় শক্তি। মঙ্গলবার বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সামাজিক উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
ইমদাদুল হক মিলন, করোনা মহামারির সময় উত্তরবঙ্গের অসহায় মানুষের দুর্দশা দেখে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার মানুষের জন্য সহায়তার পরিকল্পনা থাকলেও চেয়ারম্যান মহোদয় তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার পরিবারের জন্য এক মাসের খাদ্য সহায়তার নির্দেশ দেন। পরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতাই প্রকৃত স্বেচ্ছাসেবা।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সমাজ পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সংকটময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা অপরিসীম। তরুণদের অংশগ্রহণেই একটি সহমর্মী ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের জীবনের এক আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের শিক্ষার্থী হেলাল।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাই যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তখন এক ব্যাগ রক্তের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়িয়েছি। অনেক চেষ্টা করেও সময়মতো রক্তের ব্যবস্থা করতে পারিনি। সেই অসহায় মুহূর্ত আজও ভুলতে পারিনি। তাই সংকল্প করেছি, অন্য কাউকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। আজ যখন কোনো রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করে দিতে পারি, কিংবা তাদের স্বজনদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখি, তখন মনে হয় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া এটাই।
মানুষের মুখের সেই হাসিই আমাকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। হেলালের এই বক্তব্যে সেমিনারে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের বেদনা যখন মানবসেবার প্রেরণায় রূপ নেয়, তখনই একজন স্বেচ্ছাসেবক সমাজে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন। এমন অসংখ্য তরুণের মানবিক উদ্যোগই দেশের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করছে।

