নতুন প্রজন্মের জন্য হাজং ভাষায় বই প্রকাশের উদ্যোগ ডেপুটি স্পিকারের
-6a606de74a4f8.jpg)
অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২৮৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির অর্থ প্রদান করা হয়।
প্রান্তডেস্ক:জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ এ দেশের সম-অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। তাদের প্রতি দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, গারোসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে একই কাতারে এনেছিলেন। তিনি শিখিয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি—এই দেশের নাগরিক। অতএব কাউকে পাহাড়ি, হাজং বা গারো বলে দূরে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, কথায় কথায় ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আমি চাই না কলমাকান্দা-দুর্গাপুরে এই শব্দটি থাকুক। আমি চাই, আপনারা সমমর্যাদায় এগিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, হাজংদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও এর কোনো স্বীকৃত বর্ণমালা বা পাঠ্যবই নেই। নতুন প্রজন্ম যেন তাদের মাতৃভাষা ভুলে না যায়, সে জন্য আমি হাজং ভাষার একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বইটি প্রকাশ করা হবে। বইটি প্রত্যেক হাজং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং মন্দিরভিত্তিক হাজং ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।
উপকারভোগীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যে প্রণোদনা পাচ্ছেন, এটি কারও দয়া বা সাহায্য নয়। এ দেশের নাগরিক হিসেবে এটি আপনাদের অধিকার। আমি আশা করি, আপনারা এই সহায়তা সৎ কাজে ব্যবহার করবেন এবং আত্মনির্ভরশীল হবেন।
মাদক প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদক থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান, কে গারো বা কে হাজং—এসব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আমরা সবাই মানুষ। মানুষ হিসেবেই আপনাদের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে চাই।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার তার সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে। এখন অভিভাবকদের দায়িত্ব সন্তানদের সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলা।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের মধ্যে ২৮টি সেলাই মেশিন ও ৪২টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২৮৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির অর্থ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ খায়ের, ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, ওবায়দুল হক ও আনিছুর রহমান খান পাঠান প্রমুখ।

