স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই ৩৮.৬ শতাংশ বাংলাদেশির

প্রতিবেদনটি সম্মিলিতভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে দেখা গেছে, গত বছর পাকিস্তানে ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, যেখানে বাংলাদেশে এই হার ৩৮.৬ শতাংশ।
এ খরচের বড় অংশ ব্যয় হয় প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে। সেখানে শর্করাজাতীয় খাবারগুলোর পেছনে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম। দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচের দিক থেকে ভুটান (৬.১৭ ডলার) এবং শ্রীলঙ্কার (৫.২১ ডলার) পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে এর খরচ এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম (৩.৯৪ ডলার)।
স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এটি কেনার সামর্থ্য আগের চেয়ে বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৬২.৮ শতাংশ বা ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮.৬ শতাংশ বা ৬ কোটি ৭৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে মানুষের খাদ্য ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ আয় খাবারের দামের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।
পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে এ প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিস্থিতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার খরচ কমিয়ে আনা। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারসংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্যের অপচয় রোধ করার ওপরও প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে।

