৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব:: নীল জলরাশির তীরে লাল গালিচার জয়গান

প্রান্তডেস্ক:ফরাসি উপকূলীয় শহর কানের নীল জলরাশি আর পামগাছের সারিতে এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের স্পন্দন। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের।
অন্যদিকে গং লি তার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, সিনেমা হলো এমন এক ভাষা, যা সংস্কৃতি আর প্রজন্মের দেয়াল ভেঙে মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে।
এবারের উদ্বোধনী আসরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নিউজিল্যান্ডের প্রখ্যাত নির্মাতা পিটার জ্যাকসনকে সম্মানসূচক ‘পাম দ’অর’ প্রদান। ‘লর্ড অব দ্য রিংস’খ্যাত এই নির্মাতাকে বিশ্ব চলচ্চিত্রে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
মঞ্চে আবেগাপ্লুত জ্যাকসন বলেন, কান উৎসবে এমন সম্মাননা পাব, তা কখনো কল্পনাও করিনি।
উৎসবের পর্দা উঠেছে ‘ইলেকট্রিক ভেনাস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীর মাধ্যমে। এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়ছে মোট ২২টি চলচ্চিত্র। স্বর্ণপাম বা পাম দ’অর জেতার লড়াইয়ে এবার আছেন স্পেনের পেদ্রো আলমোদোভার, যুক্তরাষ্ট্রের জেমস গ্রে এবং রোমানিয়ার ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউর মতো খ্যাতিমান নির্মাতারা।
জুরি বোর্ডের প্রধান হিসেবে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত নির্মাতা পার্ক চান-উক। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানান, শিল্প আর রাজনীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
এবারের উৎসবে চলচ্চিত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্পর্ক নিয়েও বিশেষ আলোচনার ঢেউ উঠেছে। জুরি সদস্য ও হলিউড অভিনেত্রী ডেমি মুর বলেন, এআই এখন এক বাস্তবতা। একে ভয় না পেয়ে কীভাবে সৃজনশীল কাজে লাগানো যায়, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ফরাসি অভিনেত্রী আই হাইদারা। বক্তব্যে তিনি বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বাস্তবতার সংকট নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
মূল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য, প্রামাণ্যচিত্র ও বিশেষ প্রদর্শনীতে ঠাসা এবারের কান উৎসব। বরাবরের মতোই কানের অলিগলি এখন বিশ্বের নানা ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক দিন এই শহর থেকেই নির্ধারিত হবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের নতুন গতিপথ।

