হেনরি ডুনান্টের জন্মদিন ও রেডক্রস দিবস আজ

শাহ মতিন টিপু:: যুদ্ধাহতের সেবায় ১৮৬৩ সালে যিনি রেডক্রসের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে অমর হয়ে আছেন, মানবদরদী জিন হেনরি ডুনান্ট এর জন্মদিন আজ।
তিনি ১৮২৮ সালে ৮ মে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।১৯১০ সালের ৩০ অক্টোবর ৮৩ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডের নিভৃত পল্লী হেইডেনে মৃত্যুবরণ করেন। ছোট বড় অনেক সৃষ্টির মধ্যে রেডক্রস প্রতিষ্ঠা তার সবচেয়ে বড় অবদান, এই জন্য তিনি ১৯০১ সালে সর্বপ্রথম শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত হন। প্রতিবছর তার জন্মদিন ৮ মে কে ‘বিশ্ব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
ইতালির সালফারিনোর মাঠে ১৮৫৯ সালে সংঘটিত ফ্রান্স-অস্ট্রিয়া যুদ্ধের পর সেখানে পড়েছিল কমবেশি ৪০ হাজার নিহত-আহত উভয়পক্ষের সৈন্য- যাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ সেখানে ছিল না। জিন হেনরি ডুনান্ট ওই সময় সে স্থান পার হচ্ছিলেন। যুদ্ধমাঠের মর্মান্তিক দৃশ্য তার হৃদয় স্পর্শ করে। তিনি আশপাশের গ্রামবাসীদের নিয়ে উভয়পক্ষের আহত সৈন্যদের সেবায় নিয়োজিত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পানি ও হাল্কা খাবারের ব্যবস্থা করেন। এই সেবা পেয়ে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পায় হাজার হাজার সৈন্য। ‘ডুনান্ট’ সৈন্যদের যার যার দেশে পাঠিয়ে দেন। এ কাজ করে বিরল আনন্দ কুড়ান ডুনান্ট। তিনি ভাবতে থাকেন এমনিতর যুদ্ধ ভবিষ্যতেও দেশে দেশে আরও হবে। তাই এমন একটি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার, যার দায়িত্বই হবে যুদ্ধাহত সৈন্যদের নিরপেক্ষভাবে সেবাদান।
সেদিনের সে ভাবনারই ফসল রেডক্রস বা রেডক্রিসেন্ট। ১৬টি দেশ নিয়ে রেডক্রস তার যাত্রা শুরু করলেও রেডক্রস রেড ক্রিসেন্টের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৮ এবং বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী মানবতাবাদী প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৯৮ মিলিয়ন সমান সংখ্যক নিবেদিত নারী-পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক সম্পৃক্ত রয়েছে রেডক্রসের সঙ্গে। রেডক্রসও তার সফল মানবিক কর্মকান্ডের জন্য ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে।
রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট আজকের বিশ্বে অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। যুদ্ধ কবলিত এলাকার বিপন্নরা মুমূর্ষকালে যাকে প্রথম পাশে পান তিনি এই প্রতিষ্ঠানেরই একজন কর্মী। যুদ্ধাহতদের স্বজনদের পরম চাওয়া, উদ্ধারকার্যে কখন ছুটে যাবে রেডক্রস বা রেডক্রিসেন্ট টিম। বিশ্বব্যাপী রেড ক্রস আন্দোলনের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়েই চলতি বছর ‘বিশ্ব রেড ক্রস রেড ও ক্রিসেন্ট দিবস’ উদযাপনের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়েছে ‘সবর্ত্র, সবার জন্য’।

